—প্রতীকী ছবি।
দেবাদিদেব মহাদেব খুব অল্পে তুষ্ট হন। সামান্য বেলপাতাতেই তিনি খুশি। তবে কিছু কিছু তিথি-নক্ষত্রে তাঁর পুজো-আরাধনায় বিশেষ সুফল প্রাপ্তি হয়। শুভ তিথি-নক্ষত্রে কাজ শুরু করলে দ্রুত সুফল প্রাপ্তি হয়। শিবরাত্রির পুণ্য তিথি একটি বিশেষ তিথি। এই তিথি আদিশক্তি এবং পুরুষশক্তির মিলনের পবিত্র তিথি। অর্থাৎ, এই শিবরাত্রি তিথিতেই দেবী পার্বতী এবং দেবাদিদেব মহাদেবের বিয়ে হয়েছিল। এই তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর আরাধনায় অজ্ঞতা, অন্ধকার দূর হয়, পূরণ হয় সকল মনোস্কামনা।
সকল মানুষের মনের ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা এক নয়। বিভিন্ন মানুষের অপ্রাপ্তি, অভাব, সমস্যা, রোগভোগ ইত্যাদির পার্থক্যে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষাও ভিন্ন। আকাঙ্ক্ষা এবং সমস্যার নিরসনের জন্য ভিন্ন প্রতিকার মেনে চলা জরুরি। বিভিন্ন শাস্ত্রে বিভিন্ন প্রতিকারের বিধান আছে। দেব-দেবীর আরাধনার মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান সম্ভব। মহাশিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর আরাধনায়ও সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশেষ এই তিথিতে দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর আরাধনা করলে দারুণ ফলপ্রাপ্তি হয়। তবে দীর্ঘকালীন সমস্যার সমাধান পাওয়া এক দিনে সম্ভব নয়। যে কোনও কর্ম অন্তত দেড় মাস থেকে তিন মাস ক্রমাগত করতে হবে। তা হলেই ফলপ্রাপ্তি ঘটবে।
মহাশিবরাত্রিতে দেবাদিদেবের অভিষেকে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। অভিষেক কী? বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, সম্ভব না হলে দেবাদিদেবের নাম উচ্চারণের সঙ্গে তাঁর মূর্তি বা বিগ্রহ বা শিবলিঙ্গকে তরল নৈবেদ্য দ্বারা স্নান করানোকেই অভিষেক বলা হয়।
বিভিন্ন উপাদান দিয়ে শিবলিঙ্গ অভিষেকে ভিন্ন ফল প্রাপ্তি হয়। কোন উপাদানে কোন সমস্যা সমাধান হয় বা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়, জেনে নিন।