বাড়ির যে কোনও ঘর কী ভাবে সাজানো হচ্ছে তার উপর অনেক কিছু
নির্ভর করে। বিশেষ করে, ঠাকুরের ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে বলে
বাস্তুবিদেরা। যে ঘরে ঠাকুর রাখা হয়, সে ঘর যে কোনও ভাবে রাখলে চলে না। এতে
দেবতারা রুষ্ট হন। শুভ শক্তির বদলে ঘরবাড়ি অশুভ শক্তিতে ভরে ওঠে। ভগবানের
আশীর্বাদ প্রাপ্তি ঘটে না। বাস্তুশাস্ত্রে ঠাকুরঘর সাজানোর নানা উপায়ের কথা বলা
রয়েছে। সেগুলি সঠিক উপায়ে মেনে ঠাকুরঘর সাজাতে পারলে জীবনে শুভ শক্তির অভাব হয় না।
কোন নিয়মগুলি মানতে হবে, জেনে নিন।
ঠাকুরঘর সাজানোর সঠিক নিয়মগুলি কী?
- বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণ ঠাকুর রাখার জন্য আদর্শ। চেষ্টা
করুন উত্তর-পূর্ব কোণ ঘেঁষে ঠাকুরঘর বানানোর। সেটি সম্ভব না হলে, যে ঘরেই ঠাকুর
রাখুন না কেন, সেই ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণটিকে বেছে নিন। সেটিও যদি সম্ভব না হয়, তা
হলে পূর্ব বা উত্তর দিকে ঠাকুর রাখা যেতে পারে। ঘরের দক্ষিণ দিকে কোনও মতে ঠাকুর
রাখা যাবে না। সিঁড়ির নীচের অংশও ঠাকুর রাখার জন্য উপযুক্ত নয়।
- ঠাকুরঘরের আকৃতির উপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। সাধারণত
আয়তাকার বা বর্গাকার ঘরই ঠাকুর রাখার জন্য শ্রেষ্ঠ। অন্যান্য আকৃতির ঘরে ঠাকুর
রাখা উচিত নয়। এতে শুভ শক্তির প্রবাহতে বিঘ্ন ঘটে।
- যে ঘরে ঠাকুর রাখা হচ্ছে, সেই ঘরের প্রবেশপথ কেমন সেই
ব্যাপারেও নজর রাখতে হবে। সেই ঘরের দরজায় যেন কোনও আওয়াজ না হয় খেয়াল রাখা জরুরি।
এ ছাড়া দরজাটি যেন পুরোটা খোলে, অর্ধেক খুলে আটকে না যায় সেই বিষয়েও খেয়াল রাখতে
হবে। ঠাকুরঘরের জন্য উপযুক্ত হল কাঠের তৈরি দরজা।
- ঠাকুরের মূর্তিগুলো দরজার দিকে মুখ করে বসানো যাবে না। তাঁদের একে
অপরের গায়ে গায়ে বসানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। সরাসরি মেঝের উপর ঠাকুর বসানো যাবে
না। বাড়ির ঠাকুরঘরে মাঝারি উচ্চতার দেবতার মূর্তি রাখতে হবে।
- ঠাকুরঘর নিয়মিত পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। সেখানে ধুলো-ময়লা
জমতে দেওয়া যাবে না।
- যে ঘরে ঠাকুর রাখেন, সেই ঘরের দেওয়ালের রং হালকা হলেই ভাল
হয়। হালকা হলুদ, সাদা, আকাশি প্রভৃতি রং বেছে নিতে পারেন। সেই ঘরের দেওয়ালে গাঢ়
রং করা যাবে না।
- ঠাকুরঘরের যেখানে-সেখানে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা যাবে না। চেষ্টা
করুন সেই ঘর যতটা সম্ভব গুছিয়ে রাখার। সেই ঘরে আলো-বাতাস যেন ঠিকঠাক চলাচল করতে
পারে সেই দিকেও নজর রাখা জরুরি। ঠাকুরের স্থান কখনও অন্ধকার করে রাখা যাবে না।