বাস্তুশাস্ত্র হল একটি প্রাচীন
ভারতীয় বিদ্যা। ‘বাস্তু’ শব্দের উৎপত্তি ‘বস্তু’ থেকে, যার অর্থ হল পৃথিবী বা যেখানে মানুষ বাস করে। সহজ কথায়, এটি এমন একটি
পদ্ধতি যা প্রকৃতির পঞ্চভূত, অর্থাৎ ক্ষিতি (মাটি), অপ (জল), তেজ (আগুন), মরুৎ (বাতাস)
এবং ব্যোম (আকাশ)— এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বাসগৃহ বা কর্মক্ষেত্র নির্মাণের
পরামর্শ দেয়। বাস্তু নির্দেশিত পদ্ধতি সঠিক ভাবে মেনে না চললে জীবনে নানান রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার মধ্যে অন্যতম হল আর্থিক অনটন। কিছু উপায় মেনে চললে এই সঙ্কট
থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
- বাস্তুবিদেরা জানাচ্ছেন, বাড়ির
দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রধান দরজা থাকলে ঋণ বাড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ ছাড়া, প্রধান দরজার
সামনে কোনও রকম বাধা, যেমন বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকলেও সংসারে টাকাপয়সার
টানাটানি হতে পারে। সেখানে জঞ্জাল জমিয়ে রাখাও উচিত নয়। দরজার সামনে খোলা ও
পরিষ্কার জায়গা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
- পুরাণের কাহিনি অনুসারে, উত্তর দিক
ধনদেবতা কুবেরের স্থান। সেই কারণে এই দিকটি সব সময় পরিষ্কার ও খোলামেলা রাখা উচিত।
উত্তর দিকে ভারী আসবাব রাখাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এর ফলে আর্থিক উন্নতি বাধা পায়
বলে বিশ্বাস।
- ঈশান কোণকে বলা হয় দেবস্থান। উত্তর-পূর্ব
দিকে অবস্থান করেন স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব। এই স্থানে ময়লার ঝুড়ি রাখলে বা বাথরুম থাকলে অপ্রয়োজনীয়
খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
- বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম
দিক স্থিতিশীলতা ও সম্পদের স্থান। তাই এই দিকে আলমারি বা সিন্দুক রাখা শুভ। অবশ্য
সিন্দুক এমন ভাবে রাখতে হবে যাতে তা উত্তরমুখী হয়ে খোলে। এতে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়।
- জলের বোতল, বড় ব্যারেল বাঅ্যাকোয়ারিয়াম
উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে রাখলে তা বিশেষ ভাবে শুভ ফল দেবে বলে জানাচ্ছেন
শাস্ত্রবিদেরা। কৃত্রিম ঝরনাও রাখা যেতে পারে। এর ফলে আয়ের পথ সুগম হবে বলে
বিশ্বাস।
- অগ্নিকোণ, অর্থাৎ বাড়ির
দক্ষিণ-পূর্ব দিকটিতে রান্নাঘর থাকা কল্যাণকর বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। কিন্তু গ্যাসঅভেনটি
যেন উত্তর-পূর্ব দিকে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এর ফলে অর্থ অপচয়ের
আশঙ্কা রয়ে যায়।
এই সব দিকগুলি ছাড়াও বাড়িতে কোনও পুরনো
বা অকেজো জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না। এগুলি নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে।