‘usernames’ feature

হোয়াট্‌সঅ্যাপের পরে কেন্দ্রের নজরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার নিয়ে পাঠানো হল নোটিস

সম্প্রতি মেটার তরফে হোয়াট্‌সঅ্যাপের ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার চালুর ঘোষণা করে জানানো হয়েছিল, ফোন নম্বর শেয়ার না করেই যোগাযোগ করার সুযোগ মিলবে নতুন ব্যবস্থায়। টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল অ্যাপে এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ২২:৫৭

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হোয়াট্‌সঅ্যাপ-কে নোটিস পাঠানোর পরে এ বার ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের নিশানায় আরও দুই ইন্সট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল। সংবাদসংস্থা পিটিআই প্রকাশিত প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি (ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড আইটি) মন্ত্রকের তরফে ওই দুই সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের চালু করা ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার চালুর পরে কী ভাবে প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতি সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা করছে।

Advertisement

সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, টেলিগ্রামকে পাঠানো নোটিসে কেন্দ্র প্রশ্ন তুলেছে, কেন ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচারটি বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। এর আগে বুধবার আইটি মন্ত্রকের তরফে হোয়াট্‌সঅ্যাপ-ঘোষিত ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার নিয়ে মেটাকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এর ফলে অনলাইন প্রতারণা, ফিশিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট স্ক্যাম এবং পরিচয় জালিয়াতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে পারে। পাশাপাশি মেটাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, নতুন ফিচারটি কোনও সঙ্কট ডেকে আনবে কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই সেটি ভারতে ব্যবহারে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ভারতে হোয়াট্‌সঅ্যাপের ৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছেন!

সম্প্রতি মেটার তরফে হোয়াট্‌সঅ্যাপের ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার’ চালুর ঘোষণা করে জানানো হয়েছিল, ফোন নম্বর শেয়ার না করেই যোগাযোগ করার সুযোগ মিলবে নতুন ব্যবস্থায়। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এই বছরের শেষ দিকে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হবে। কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বৈধ সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নামের মতো দেখতে ‘ইউজ়ারনেম’ গ্রহণ করতে পারে। আর ওই ‘ছদ্মবেশের’ সাহায্য নিয়ে প্রতারণা আবার অন্য অপরাধ ঘটাতে পারে। এর ফলে জন নিরাপত্তা ও সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না।

হোয়াট্‌সঅ্যাপ ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচারটির পক্ষে সাফাই দিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, প্রতারণা ও পরিচয় জালিয়াতি ঠেকাতে এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য এতে অন্তর্নির্মিত সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এই আবহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এ বার নজরদারি অন্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকেও সম্প্রসারিত করল। গত মাসে টেলিগ্রাম এবং এর সংশ্লিষ্ট ওয়েব পরিষেবাগুলোর উপর ২২ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ, প্ল্যাটফর্মটি মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্ন ফাঁস প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতারণামূলক কার্যকলাপ রোধে ব্যর্থ হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে এক সপ্তাহব্যাপী সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি আবার ভারতে ফিরে আসে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ান দুই ভাই পাভেল এবং নিকোলাই দুরভ ২০১৩ সালে টেলিগ্রাম অ্যাপটি তৈরি করেছিলেন। এতে ‘সিক্রেট চ্যাট’ মোড ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দের। এই চ্যাট মোডে নির্দিষ্ট ফোনটি ছাড়া আর কোনও জায়গা থেকে চ্যাট দেখতে পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট সময় পরে সেই চ্যাট স্বয়ংক্রিয় ডিলিট করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারেন ব্যবহারকারী। হোয়াট্‌সঅ্যাপের তুলনায় বেশি জিবি-র ফাইলও পাঠানো যেতে পারে টেলিগ্রামে। ফলে সিনেমা বা গান পরস্পরকে পাঠাতে কোনও অসুবিধা হয় না। মেসেজ শিডিউলিংও করা যায়। অর্থাৎ, আগে থেকে ঠিক করে রাখা যায়, কোন সময় মেসেজটি পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট সময়ে টেলিগ্রাম অ্যাপটি প্রেরকের হয়ে নিজেই মেসেজ পাঠিয়ে দেয়। এই ক’টি ফিচারই ব্যবহারকারীদের বিপুল আকৃষ্ট করেছে।

অন্য দিকে, হোয়াটসঅ্যাপের যুগ্ম-নির্মাতা ব্রায়ান অ্যাকশন এবং মোক্সি মার্লিনস্পাইক ২০১৮ সালে সিগন্যাল অ্যাপটি বানিয়েছিলেন। ব্যবহারকারীদের মতে, সবচেয়ে নিরাপদ অ্যাপ এটি। এই অ্যাপে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করার সময় ফোন নম্বর ছাড়া কিছুই চাওয়া হয় না। নির্দিষ্ট সময় পর পর অ্যাপটি পিন (পার্সোনাল আইডিন্টেফিকেশন নম্বর) চায়। যা না দিতে পারলে অ্যাপের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেকের মতেই এটি অত্যন্ত নিরাপদ। ঝকঝকে চেহারার অ্যাপটিকে নিরাপদ ভাবার পিছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। তার অন্যতম ‘সিল্‌ড সেন্ডার’ অপশন। এতে মেসেজ প্রেরক এবং গ্রাহক— দু’তরফই নিজের পরিচয় আংশিক ভাবে গোপন রাখতে পারেন পরস্পরের থেকে।

Advertisement
আরও পড়ুন