Lok Sabha Speaker Om Birla

‘কোনও সাংসদেরই বিশেষ অধিকার নেই’! ধ্বনিভোটে জিতে আসনে ফিরেই কড়া বার্তা দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা

রাহুল-সহ বিরোধী সাংসদদের মাইক বন্ধ করার অভিযোগ খারিজ করে স্পিকারের মন্তব্য, ‘‘মাইক চালু বা বন্ধ করার কোনও সুইচ আমার কাছে নেই। চেয়ার যখন কোনও সদস্যকে কথা বলার অনুমতি দেয়, তখনই মাইক চালু করা হয়।”

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৬:২৫
Lok Sabha Speaker Om Birla says, functions under rules, no member has privilege to speak beyond framework

ওম বিড়লা। ছবি: সংগৃহীত।

ধ্বনিভোটে জিতে লোকসভার স্পিকারের আসনে ফেরার পরেই কড়া বার্তা দিলেন ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার সভায় তিনি বলেন, ‘‘সংসদ কড়া ভাবে নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং কোনও সাংসদেরই যে কোনও সময় বা যে কোনও বিষয়ে কথা বলার বিশেষ অধিকার নেই।’’

Advertisement

পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছিল। প্রথা মেনে তার পর থেকে অধিবেশন পরিচালনা করেননি তিনি। গত ৯ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরুর পরেও সদস্যদের আসনেই বসছিলেন তিনি। বুধবার ধ্বনিভোটে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হওয়ার পরে স্পিকারের আসনে ফিরেই এ বার বিরোধীদের সতর্ক করে দিলেন বিড়লা। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘স্পিকারের আসন কোনও ব্যক্তির নয়। বরং এটি সংসদের মর্যাদার প্রতীক। কোনও সদস্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক, লোকসভা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলবে। আমি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে অধিবেশন পরিচালনা করব।’’

শাসকপক্ষের সদস্যদের টেবিল চাপড়ানো এবং প্রবল হর্ষধ্বনির মধ্যে রাজস্থানের কোটা লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী বিড়লা বলেন, “এই সংসদের কোনও সদস্যেরই নিয়ম-কাঠামোর বাইরে কথা বলার কোনও বিশেষাধিকার নেই। সংসদ এত দিন নিয়ম-বিধি মেনে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।’’ অনাস্থা বিতর্ক এবং ধ্বনিভোটে যে সাংসদেরা তাঁর প্রতি আস্থা জানিয়েছেন, তাঁদের ধন্যবাদও জানান বিড়লা। সেই সঙ্গে বলেন, ‘‘গত দু’দিনের বিতর্কে কিছু সদস্য বলেছেন যে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় না এবং তাঁর যখন ইচ্ছা ও যে কোনও বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া উচিত। সংসদে সকলেরই কথা বলার অধিকার আছে, তবে তা নিয়ম ও বিধি মেনে। চেয়ারের অনুমতি ছাড়া কোনও সদস্য, এমনকি প্রধানমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রীও কথা বলতে পারেন না। তিনি তখনই কথা বলতে পারেন, যখন চেয়ার তাঁকে অনুমতি দেয়।”

সেই সঙ্গে রাহুল-সহ বিরোধী সাংসদদের মাইক বন্ধ করার অভিযোগ খারিজ করে স্পিকারের মন্তব্য, ‘‘মাইক চালু বা বন্ধ করার কোনও সুইচ আমার কাছে নেই। চেয়ার যখন কোনও সদস্যকে কথা বলার অনুমতি দেয়, তখনই মাইক চালু করা হয়।” প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ নরবণের অপ্রকাশিত বই থেকে রাহুল চিনা আগ্রাসন সম্পর্কিত কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করতে গেলে বাধা দেন স্পিকার বিড়লা। জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী কোনও বই বা সংবাদপত্র উদ্ধৃত করা যাবে না। অথচ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তাঁর বক্তৃতায় বিনা বাধায় একের পর এক বই থেকে ‘গান্ধী-নেহরু পরিবারের দুর্নীতি’ সম্পর্কিত নানা মন্তব্য উদ্ধৃত করেছিলেন ওই অধিবেশনে। এমনকি, বৃহস্পতিবারও একটি বইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সম্পর্কে নিশিকান্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই বেলা ২টো পর্যন্ত সভা মুলতুবি করে দেন বিড়লা।

Advertisement
আরও পড়ুন