India-Canada Relation

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলল আরও একটু! কানাডায় গিয়ে বৈঠক অজিত ডোভালের, বার্তা কি খলিস্তানিদেরও?

কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল, মনে করা হচ্ছে তাতেই ইতি টানতে তৎপর হয়েছে দুই দেশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৫
অজিত ডোভাল।

অজিত ডোভাল। — ফাইল চিত্র।

ভারত-কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শৈত্য কি আরও একটু কাটল! সম্পর্ক উন্নতি করতে আরও একটু এগিয়ে এসে দুই দেশই পরিমিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল। গত সপ্তাহে কানাডার রাজধানী ওটাওয়া গিয়ে সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বৈঠকে আলোচনা হল দুই দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। মনে করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীর খুনের পরে দুই দেশের সম্পর্কে যে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল, এখন তা-ই কিছুটা কাটল।

Advertisement

৬ এবং ৭ ফেব্রুয়ারি, দু’দিনের সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি ড্রুয়িন ও জনসুরক্ষা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারির সঙ্গে বৈঠক করেন ডোভাল। বৈঠকের পরে উভয় পক্ষই জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মমাফিক আলোচনা হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তারা বৈঠকের সময় এবং দুই পক্ষের বাচনভঙ্গি দেখেই এই মত প্রকাশ করেছেন। কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল, মনে করা হচ্ছে তাতেই ইতি টানতে তৎপর হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে এই বৈঠক খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির জন্যও একটি স্পষ্ট বার্তা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মার্ক কার্নের সরকারের আমলে একটু হলেও বিপাকে খলিস্তানি সংগঠনগুলি।

বৈঠকের পরে ভারত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দুই দেশই নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ করা নিয়ে সম্মত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়েও সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি এবং ওটাওয়া। কানাডার বিবৃতিতেও ছিল একই কথা। দুই পক্ষই একে অন্যের দেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত লিয়াজঁ অফিসার রাখতে সম্মত হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এ সব পদক্ষেপের ফলে মাদক পাচার, অপরাধ রোখা যাবে। বৈঠকে সাইবার অপরাধ আটকানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে দু’পক্ষের। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে সাইবার অপরাধ রোখার কথা হয়েছে।

মার্চের শুরুতেই ভারত সফরে আসার কথা কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নের। তখন এআই, ইউরেনিয়াম, অন্য খনিজ এবং শক্তি সংক্রান্ত কিছু চুক্তি সারবেন তিনি। তার আগে ডোভালের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি এবং ওটাওয়া। খলিস্তানি নেতার মৃত্যুর পরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের পরে এই প্রথম ভারত সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হয় খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিংহ নিজ্জরের মৃত্যুর পরে। সেই ঘটনায় ভারতের দিকে আঙুল তুলছিলেন কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তাঁর জমানায় কানাডার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কার্নে কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পরে দিল্লির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নত হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও থমকে থাকা আলোচনা পুনরায় চালু করতে উদ্যোগী হয় ভারত এবং কানাডা। গত নভেম্বরেই এ বিষয়ে সম্মত হয় দু’দেশ।

কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, সম্ভবত মার্চ মাস থেকেই ভারত এবং কানাডার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা ফের শুরু হয়ে যাবে। এই সময়েই দু’দেশের মধ্যে পরমাণু শক্তি, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পরিবেশ, এআই-সহ বেশ কিছু বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ বছরের জন্য ২৮০ কোটি কানাডা ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮,৭৪৫ কোটি টাকা) ইউরেনিয়াম ভারতে সরবরাহের একটি চুক্তিও। পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের জন্য অন্যতম কাঁচামাল হল ইউরেনিয়াম। এই আবহে ডোভালের কানাডা সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন