বিয়েতে ছকভাঙা সাজ রণজয়-শ্যামৌপ্তির। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
সাজের ভারে আনন্দ না মাটি হয়! শ্যামৌপ্তি মুদলি এবং রণজয় বিষ্ণুর বিয়ের সাজের মূলমন্ত্র ছিল এমনই। শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতায় সাতপাকে বাঁধা পড়লেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি। পর্দার গুড্ডি-অনুজের মিলন হল বাস্তবে। কিন্তু সেই বিয়েতে না ছিল টোপর, না বেনারসি বা চন্দন। সাজে সম্পূর্ণ নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছিলেন বর-কনে। আর তাঁদের এই ইচ্ছাপূরণ হয় পোশাকশিল্পী অনুশ্রী মলহোত্রের হাত ধরে।
আঁচল সামলাতে সামলাতে হাত ব্যথা হবে, গলার হার ঘাড়ে কেটে বসবে, হিলের চাপে পা ফুলে উঠবে, আর মুখে এমন মেকআপ থাকবে যে হাসলেও মুখ নড়বে না— তবেই নাকি বিয়ের সাজ জমবে! এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি। বাঙালি বিয়েতে কমফর্টেবল বা আরামদায়ক কিংবা স্বস্তির ফ্যাশনকে জায়গা করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বর-কনের। গোটা দুনিয়া যেখানে ভারী সাজ থেকে বেরিয়ে আরামের দিকে ঝুঁকছে, বর-কনেই বা বাদ যাবে কেন!
রণজয়-শ্যামৌপ্তির সাজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
তাই বেনারসি, ধুতি অথবা ভারী গয়না এবং টোপরের ভারিক্কি সাজের ধার ধারেননি নবদম্পতি। বলিউডের ধাঁচে বিয়ে সারার পাশাপাশি সাজেও ছিল ফিউশনের ছোঁয়া। অনুশ্রীর কথায়, ‘‘ওরা দু’জনই চেয়েছিল ফিউশন সাজ। যাতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়াও থাকে, আবার অবাঙালি আমেজও আসে। তার উপর গোটা দিনের আনন্দে সাজ যেন কোনও অন্তরায় না হয়। তবে পোশাকগুলির ধরন ফিউশন হলেও মোটিফ যা ব্যবহৃত হয়েছে, তাতে বাঙালিয়ানাই ছিল ষোলো আনা।’’
রণজয়ের পরনে ছিল অফ-হোয়াইট অর্গ্যানজ়া পাঞ্জাবি। তাতে হালকা গিলে করা পাঞ্জাবির ধাঁচ। গলাবন্ধের বদলে ছিল বুক পর্যন্ত খোলা প্ল্যাকেট। তার উপরে হালকা টোন অন টোন এমব্রয়ডারি। রণজয়ের বিয়ের জোড়ে ছিল শঙ্খের মোটিফ। প্রাক্-বসন্তের মরসুমে বিয়ে, তায় আবার খোলা মাঠে। তাই আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে একটি জ্যাকেটও পরানো হয় বরকে। একই রঙের সিল্কের জ্যাকেটে ছিল সুতোর কাজ।
বর-কনের বিয়ের পোশাক। —নিজস্ব চিত্র
কনের সাজে লালের প্রাধান্য। লাল শাড়ি ও লাল ব্লাউজ়। কিন্তু বেনারসির বদলে হালকা সিল্কের শাড়িই পছন্দ শ্যামৌপ্তির। শাড়ির পাড়ে ছিল একটানা সোনালি ঝালর। আঁচলের শেষ প্রান্তে গাছকৌটোর মোটিফ। ব্লাউজ়ের ঘটিহাতা সাবেকিয়ানার কথা মনে করিয়ে দেয়। ব্লাউজ়ের সরু পাড়ে ছিল সুতোর কাজ। গয়নার ক্ষেত্রেও হালকা সাজ পছন্দ শ্যামৌপ্তির। মাথায় টিকলি, গলায় চোকার, একটি আংটি, দু’হাতে মোটা বালা, আর কানের দুল, কোমরবন্ধনী— ন্যূনতম সোনার গয়নায় সেজেছিলেন কনে। অবাঙালি মেহন্দির বদলে বাঙালিদের আলতা সাজেই রাঙা হয়েছিলেন তিনি।
বিয়ের দিন নিজেকে ভুলে যাও— এমন মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন অভিনেতা ও অভিনেত্রী। কষ্ট করে বসে কেবল বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল না তাঁদের। গল্প করা, ছবি তোলা, নাচানাচি, খাওয়াদাওয়া, আড্ডার মধ্যে দিয়ে নিজেদের বিশেষ দিন উদ্যাপন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। নিজের মতো করে থাকার শখ ছিল। আর তাই এমন ভাবেই সেজেছিলেন বর-কনে। বিবাহপর্ব মিটে যাওয়ার পর অবশ্য সাদা পাঞ্জাবি, ধুতির বদলে কালো ওয়েস্টকোট এবং প্যান্ট পরে ফেলেন রণজয়। আর সেই পোশাকেই একের পর এক নাচে মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন তিনি।
মোটের উপর নাচে-গানে, আড্ডায়, খাওয়াদাওয়ায় জমিয়ে বিয়ে করলেন পর্দার গুড্ডি-অনুজ। বলিউডের সিনেমার থেকে কোনও অংশে কম নয় যেন।