সাদা ফুলেই ভরবে বাগান। তালিকায় রাখবেন কোন ফুল? ছবি: সংগৃহীত।
রঙিন ফুলে বাগান ভরলে দেখতে ভারি সুন্দর দেখায়। তবে নানা রঙের বদলে যদি শুধু সাদারই আধিক্য থাকে, মন্দ লাগবে কি? সাদা রং স্নিগ্ধ, সাদা শান্তির প্রতীক। এই রঙেরও আলাদা মাধুর্য আছে।
গ্রীষ্মের বাগিচা সাদা ফুলে ভরাতে হলে কোন গাছ বেছে নেবেন? জেনে নিন, সেই গাছ কী ভাবে বড় করবেন?
সাদা গোলাপ: শুধু রূপে নয়, গন্ধেও মাতায় গোলাপ। বাংলায় লাল গোলাপই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে সাদা গোলাপও কিন্তু একটু খুঁজলেই মেলে। গোলাপ শীতে ভাল হয়, তবে উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে এই ফুল গরমেও ফুটতে পারে।
গোলাপের জন্য ঝুরঝুরে, উর্বর মাটি দরকার। দোআঁশ বা সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে একটু বালি এবং জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করুন। গাছের গোড়ায় জল জমতে দেওয়া চলবে না। ভাল মানের চারা ১০-১২ ইঞ্চির টবে বসিয়ে দিন। চারা বেড়ে ওঠার সময় চড়া রোদে না রেখে হালকা রোদে রাখুন।
গাছ বেড়ে ওঠার সময় তিন মাস অন্তর জৈব সার দিন। পাতা পচা সার, গোবর সার বা চায়ের পাতা সার হিসাবে দেওয়া যায়। জল দিতে হবে বুঝে। টবের জল নিকাশি ব্যবস্থা ভাল হওয়া দরকার। মাঝেমধ্যে ডালপালা ছাঁটাই জরুরি। তবে তা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে করতে হবে। সঠিক ভাবে ডাল ছাঁটলে গাছ ঝোপের মতো হবে, ফুলও বেশি আসবে।
গন্ধরাজ: নামেই প্রকাশ এর গন্ধের কথা। গাছ ফুলে ভরলে, তার সুবাস টের পাওয়া যায় দূর থেকে। বছরভর এই গাছে ফুল মেলে। গরমে ফুল বেশি হয়। দোআঁশ মাটির সঙ্গে জৈব সার বা ভার্মি কম্পোস্ট মিশিয়ে নিন। এই গাছ বেড়ে ওঠার জন্য আর্দ্র মাটি প্রয়োজন কিন্তু জল জমলে বিপদ। তাই মাটি প্রস্তুত করার সময় জল নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করে নিন। এই গাছ অ্যাসিডিক মাটি পছন্দ করে। গাছ বেড়ে ওঠার সময় তাই তরল সার বা খোল পচা জল দিন। বর্ষার শেষে ডাল ছাঁটলে ফুল ভাল হবে।
বেল: গরম থেকে বর্ষা পর্যন্ত বেল ফুল ফোটে। সাদা ছোট ছোট ফুলের সৌরভ টের পাওয়া যায় দূর থেকে। টবে বা বাগানের মাটিতে গাছটি করতে পারেন। এই গাছের বেড়ে ওঠার জন্য বেলে-দোআঁশের মিশেল ভাল। সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে খানিক বালি এবং জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিন। গরমকালে হয় বলে জল বুঝে দিতে হবে। চড়া রোদে মাটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। টবের উপরিভাগের মাটি শুকিয়ে গেলেই জল দিতে হবে। মাঝেমধ্যে শুকনো ডাল, পোকা লাগা পাতা ছাঁটতে হবে। পোকার আক্রমণ থেকে গাছ বাঁচাতে নিমতেল ভাল কাজ করে।