আরব সাগরের তীরের আলুর রান্না! ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আমিষ নয়। মাছ-মাংস-ডিমের বিকল্প হিসাবে পনির, সয়াবিনের মতো যে সমস্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হয়, তা-ও নয়। নয় কোনও বিশেষ ধরনের সব্জি বা আনাজপাতি। শুধু আলু। আর তা দিয়েই এমন রাঁধেন কোঙ্কন উপকূলের মানুষ, যে একটি তরকারি দিয়েই উঠে যায় এক থালা ভাত। অথবা খান কতক লুচি। এমনই সুস্বাদু যে অন্য কোনও তরকারির প্রয়োজনই হবে না। আলু দিয়ে তৈরি ওই খাবারের নাম অম্বত বাটাটা।
আরব সাগরের কোঙ্কন উপকূল বলতে গোয়া এবং মহারাষ্ট্রের কিছুটা অংশ বোঝায়। এ খাবার সেই কোঙ্কন উপকূলস্থ গোয়ার সারস্বত ব্রাহ্মণদের ভোজ্য। পেঁয়াজ-রসুন বর্জিত নিরামিষ খাওয়া মানুষজনের জন্য এ খাবার এক ধরনের ‘স্বর্গ’। তবে যাঁরা নিয়মিত আমিষ খান, তাঁরাও এই স্বাদের প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। আর সব থেকে বড় কথা হল, সুস্বাদু এই খাবারটি বানানোও অতীব সহজ।
কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ:
১ কাপ তাজা কোরানো নারকেল
১ টেবিল চামচ গোটা ধনে
আধ চা-চামচ গোটা জিরে
৫ টি গোলমরিচ
১ টি লেবুর মাপের পাকা তেঁতুলের টুকরো গোলা জল
প্রয়োজনমতো রান্নার তেল
১ চা-চামচ সর্ষে
আধ চা-চামচ মেথি দানা
আধ চা-চামচ হিং
১০-১২ টি কারিপাতা
আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো
১ চা-চামচ লাল লঙ্কাগুঁড়ো
আধ চা চামচ ধনে (না চাইলে বাদ দিতে পারেন)
৪ টি আলু লম্বা ফালি করে কাটা
১.৫ কাপ জল
স্বাদমতো নুন
অল্প ধনেপাতা কুচি
প্রণালী:
মিক্সার বা শিলনোড়ায় ১ কাপ কোরানো নারকেল, ১ টেবিল চামচ ধনে, আধ চা-চামচ জিরে, ৫টি গোলমরিচ এবং তেঁতুল গোলা সামান্য জল দিয়ে ভাল করে বেটে একটি মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন।
কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে ১ চা-চামচ সর্ষে, আধ চা-চামচ মেথি দানা, আধ চা-চামচ হিং এবং ১০-১২টি কারিপাতা দিয়ে হালকা নেড়ে নিন।
ফোড়নের সুগন্ধ বেরোলে তাতে আধ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো এবং ১ চা-চামচ লাল লঙ্কাগুঁড়ো এবং ধনেগুঁড়ো দিন। এ বার লম্বা করে কাটা ৪টি আলুর টুকরো দিয়ে মিনিট দুয়েক ভাল ভাবে কষিয়ে নিন।
এবার কড়াইতে ১.৫ কাপ জল এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে ঢাকা দিন। আলু প্রায় সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। এবার আগে থেকে তৈরি করে রাখা বাটা মশলাটি দিয়ে দিন। সবটা ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে আবার ঢাকা দিয়ে ৩-৪ মিনিট রান্না হতে দিন।
তেলে ছেড়ে এলে সামান্য নাড়াচাড়া করে আর মিনিট খানেক রান্না হতে দিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে উপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে গরম গরম অম্বত বাটাটা। এটি গরম ভাতের সঙ্গে খেতে যেমন ভাল লাগবে, তেমনই লুচির সঙ্গেও দিব্যি খাওয়া যাবে।