এশিয়া কাপে সলমন (বাঁ দিকে) এবং সূর্যের হাত না মেলানোর মুহূর্ত। — ফাইল চিত্র।
পহেলগাঁও হত্যাকান্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে গত বছর এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিনটি ম্যাচেই দু’দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি। সেই নিয়ে বিতর্কও হয়। ওই ঘটনার আট মাস পরেও বিষয়টি ভুলতে পারছেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক। জানিয়েছেন, ওই দিন কাজটি ঠিক করেনি ভারত।
উল্লেখ্য, এশিয়া কাপ হয়েছিল উত্তপ্ত আবহে। কারণ তার কয়েক মাস আগেই দু’দেশ সাক্ষী থেকেছিল স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধের। বাদানুবাদ জারি ছিল তখনও। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দু’দল হাত মেলায়নি।
পাকিস্তানের এক পডকাস্টে সলমন বলেছেন, “এশিয়া কাপের আগে একটা সাংবাদিক বৈঠক হয়েছিল। সেখানে হাত মেলানো, ট্রফিশুট সবই হয়েছিল। টস করতে যাওয়ার সময় স্বাভাবিকই ছিলাম। সব কিছু যে স্বাভাবিক হবে না সে রকম একটা ধারণা ছিলই। তবে হাত মেলানো হবে না এটা ভাবতেও পারিনি। কোনও ধারণাই ছিল না এ ব্যাপারে।”
সলমন আরও বলেন, “আমাদের মিডিয়া ম্যানেজার নইম ভাইয়ের সঙ্গে টস করতে গিয়েছিলাম। তখন ম্যাচ রেফারি, যাঁর নাম এখন মনে পড়ছে না, তিনি আমাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ওরা কিন্তু এটা করবেই। হ্যান্ডশেক হবে না। তাই ও দিকটা তুমি খেয়াল রেখো’। আমি বলেছিলাম, ‘হ্যান্ডশেক না হলে না হবে। কোনও ব্যাপার নয়। আমিও বিরাট আগ্রহী নই এই কাজে’। তার পর যা হয়েছিল সকলেই দেখেছেন। ম্যাচ রেফারিই সকলের আগে বলেছিলেন হ্যান্ডশেক হবে না।”
এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচেই জিতেছিল ভারত। ফাইনালে জয়ের পর ট্রফি নেওয়া নিয়েও অনেক নাটক হয়েছে। তবে সলমন কথা বলেছেন হ্যান্ডশেক নিয়েই। তাঁর মতে, ভারতের এমন কাজ করা একেবারেই উচিত হয়নি। সলমনের কথায়, “ম্যাচে আমরা হেরে গিয়েছিলাম। এর পর ভারতের প্যাভিলিয়নের (সাজঘর) দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম হাত মেলাব বলে। ওরা তখনও হাত মেলায়নি।”
সলমনের সংযোজন, “আমি আগেও বহু বার বলেছি, কাজটা ঠিক হয়নি। আমরা একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি পাকিস্তানের হয়ে খেলি। লোকে আমাকে দেখে। ছোটরা কী শিখবে তা হলে? যদি পরের দিন ক্লাবের ম্যাচে একই ঘটনা ঘটে তা হলে দিনের শেষে আমিই তার জন্য দায়ী থাকব। কারণ আমি সেই ঘটনার অংশ ছিলাম। আপনি যখন কারও আদর্শ হন তখন এই কাজ করা উচিত নয়।”