আইএসএল ট্রফি। —ফাইল চিত্র।
নতুন বছরের শুরুতেও কাটল না আইএসএল জট। ভারতের প্রধান ফুটবল লিগের ভবিষ্যৎ যে তিমিরে ছিল, সেখানেই থেকে গেল। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ক্লাবগুলিকে যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে রাজি নয় তারা। পাল্টা ফেডারেশনকে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ক্লাবগুলি। সেগুলি মানা হলে তবেই ফেডারেশনের প্রস্তাব মানবে তারা।
বৃহস্পতিবার ফেডারেশনকে চিঠি পাঠিয়েছেন স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির সিইও ধ্রুব সুদ। জামশেদপুর বাদে আইএসএলের ১৩টি ক্লাবের হয়ে এই চিঠি লিখেছেন তিনি। সেখানে লেখা হয়েছে, আগে কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করতে হবে। তার পরেই তারা খেলবে। কারণ, অতিরিক্ত ফি দিয়ে আইএসএল খেলতে চাইছে না কোনও ক্লাব। জানানো হয়েছে, যদি ফেডারেশন চায় তা হলে ৩ জানুয়ারি আবার বৈঠকে বসতে রাজি তারা।
কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক জানিয়েছে, আইএসএল হবেই। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে ফেডারেশন। তবে কেরল ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি এফসি, ওড়িশা এফসি-র মতো ক্লাব আদৌ আইএসএল খেলতে চায় কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। কেন্দ্র ও ফেডারেশন আইএসএল হবেই বললেও মূল সমস্যা টাকার। সেই সমাধান এখনও হয়নি। সেটা নিয়েই ফেডারেশনের সঙ্গে ক্লাবগুলির চিঠির আদান-প্রদান হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নিজেদের অবস্থান জানিয়ে গিল ১৩ ক্লাব।
চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় জানানো হয়েছে। যেমন, আইএসএল হলে তার কমার্শিয়াল স্বত্ব কার হাতে থাকবে, সেটা আগে চূড়ান্ত করতে হবে। কোথায় ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে, তা-ও এখনও ঠিক হয়নি। এই সব বিষয় না মিটলে হ্যাঁ করতে চাইছে না ক্লাবগুলি। কারণ, এই পরিস্থিতিতে লিগ আয়োজন করতে হলে ক্লাবগুলিকে অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা দিতে হবে। অতিরিক্ত খরচ করতে রাজি নয় তারা।
এর আগে আইএসএলের ক্লাবগুলি ফেডারেশনের তিন সদস্যের কমিটিকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। কতগুলি ম্যাচ খেললে এএফসি কাপে জায়গা পাওয়া যাবে, তা জানতে বলা হয়েছিল। ফেডারেশন সে কথা জিজ্ঞাসাও করে। পাল্টা এএফসি জানিয়ে দেয়, ফেডারেশন কী ফরম্যাটে, ক’টা ম্যাচের লিগ করতে চাইছে তা লিখিত আকারে পাঠাতে হবে। তার জবাব এখনও ফেডারেশন দিতে পারেনি। তার মাঝেই আবার ফেডারেশনের উপর চাপ বাড়াল ক্লাবগুলি।