App Cab Ride

ক্যাবে উঠতেই যাত্রীর হাতে ‘মেনুকার্ড’ ধরালেন চালক! ৪৫ মিনিটের অদ্ভুত ‘নীরবযাত্রা’র গল্প শোনালেন তরুণী

‘ওটদ্যবেরি’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে তরুণী লিখেছেন, ক্যাবে ওঠার পর তাঁর হাতে একটি মেনুকার্ড তুলে দেন চালক। সেই সহজ ‘রাইড মেনু’তে যাত্রীদের যাত্রাপথে নিজেদের পছন্দমতো আলাপচারিতার সুযোগ বেছে নেওয়ার বন্দোবস্ত ছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৩৫

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

খাবারের মেনুর মতো অ্যাপক্যাবেও মেনু! যাত্রীরা ক্যাব বুক করার পর কেমন যাত্রা চাইছেন তার তালিকা ধরিয়ে দেন অ্যাপক্যাব চালক। যাত্রীদের আরামের জন্য ক্যাবচালকের অভিনব উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। এক তরুণী জানিয়েছেন বিমানবন্দর থেকে বাড়ি আসার জন্য ক্যাব বুক করেছিলেন তিনি। ৪৫ মিনিটের সেই যাত্রা তাঁর জীবনের অন্যতম আরামদায়ক যাত্রা হয়ে উঠেছিল ক্যাবচালকের সৌজন্যে। সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি প্রকাশ করেছেন সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে পোস্টটি। যদিও এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

‘ওটদ্যবেরি’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে তরুণী লিখেছেন, ক্যাবে ওঠার পর তাঁর হাতে একটি মেনুকার্ড তুলে দেন চালক। সেই সহজ ‘রাইড মেনু’তে যাত্রীদের যাত্রাপথে নিজেদের পছন্দমতো আলাপচারিতার সুযোগ বেছে নেওয়ার বন্দোবস্ত ছিল। গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তরুণী লিখেছেন, তিনি বিমানবন্দরে নামার পরপরই বাড়ি ফেরার জন্য ৪৫ মিনিটের একটি ক্যাব বুক করেন। শারীরিক ও মানসিক ভাবে এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে, কথাবার্তা বলার মতো শক্তি তাঁর প্রায় ছিল না বললেই চলে। সাধারণ কথাবার্তা বলা বা তাঁর যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে একটি কার্ড তাঁর হাতে তুলে দেন চালক। কার্ডটির উপরে ‘রাইড মেনু’ কথাটি লেখা ছিল। সেই তালিকায় ছিল যাত্রী কেমন যাত্রা পছন্দ করতে চাইছেন তাঁর বিকল্প।

যাত্রীদের কেউ যদি গোটা যাত্রাপথে সম্পূর্ণ নীরবতা চান তাদের জন্য ‘দ্য সাইলেন্ট রাইড’। অর্থাৎ একটিও বাক্যবিনিময় করবেন না চালক। যে যাত্রীরা তাঁদের সারা দিনের কথা বলতে চান চালকের সঙ্গে তাঁদের জন্য রয়েছে ‘দ্য থেরাপিস্ট রাইড’। কোনও যাত্রী শহর সম্পর্কে তথ্য ও গল্পের সন্ধান করতে চান তারা বেছে নিতে পারেন ‘দ্য ট্যুরিস্ট রাইড’, এবং সবশেষে ‘দ্য রেডিয়ো রাইড’। যেখানে যাত্রীরা কেবল আরাম করে গান শুনতে পারবেন। তরুণী জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ‘সাইলেন্ট রাইড’ বিকল্পটি বেছে নেন এবং নীরবে চালককে ধন্যবাদ জানান। চালক মাথা নেড়ে সাড়া দেন, গাড়ির এয়ার কন্ডিশনিং ঠিক করে নেন। গোটা যাত্রাটি নীরবে সম্পন্ন করেন।

আলাপচারিতায় অংশ নেওয়ার কোনও চাপ না থাকায় ক্লান্তিকর ভ্রমণের পর তিনি পুরোপুরি স্বস্তি পেয়েছিলেন বলে জানান পোস্টদাতা। রাইডটি শেষ হওয়ার পর মোটা অঙ্কের বখশিশ দেন তিনি। যদিও চালক প্রথমে সেই টাকা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। চালকের দাবি তিনি ভাল টিপ্‌স বা রেটিং পাওয়ার জন্য কার্ডটি তৈরি করেননি। বরং, তিনি তাঁর মেয়ের একটি কথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ব্যবস্থা করেছেন। চালকের মেয়ে এক বার তাঁকে জানিয়েছিলেন অনিচ্ছা বা ক্লান্তির সময় অপরিচিতদের সঙ্গে সাধারণ কথাবার্তাও ক্লান্তিকর হতে ওঠে। মেয়ের সেই কথাটি চালকের মনে গেঁথে গিয়েছিল। তাই এমন ভাবে মেনুটি তৈরি করেছেন যাতে যাত্রীরা কোনও রকম বিচার বা সমালোচনার ভয় ছাড়াই স্বচ্ছন্দে নিজেদের পছন্দের কথা জানাতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন