Uttar Pradesh

দিদির দেওরের সঙ্গে প্রেম, বাধা দেওয়ায় রাজমিস্ত্রি স্বামীকে খুন বধূর! উঠল পুলিশকে ‘ঘোল খাওয়ানো’র অভিযোগও

মৃতের নাম মেহরাজ ওরফে মিরাজ (৩০)। পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন তিনি। মেহরাজকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী রুহিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৮
UP woman allegedly takes extreme steps to be with her sister\\\\\\\\\\\\\\\'s brother-in-law, leaving her husband dead

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দিদির দেওরের প্রেমে হাবুডুবু। এক হতে স্বামীকে মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক বধূর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় স্বামীকে খুনের পর মিথ্যা বয়ান দিয়ে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে আমরোহার হাসনপুর থানার অন্তর্গত পিপলাউটি কালান গ্রামে। ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে হইচই ফেলেছে ঘটনাটি।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরোহার বাসিন্দা রুহি নামের ওই বধূ বিয়ের আগে থেকেই তাঁর দিদির দেওর ফরমানকে গোপনে ভালবাসতেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি। অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায় রুহির। তবে ফরমানের সঙ্গে প্রেম তার পরেও ছিল। কিছু দিন পর রুহির স্বামী পুরো বিষয়টি জানতে পেরে যান। বাধাও দেন। তার পরেই স্বামীকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ওই বধূ। মৃতের নাম মেহরাজ ওরফে মিরাজ (৩০)। পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন তিনি। মেহরাজকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই রুহিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি রুহির প্রেমিক তথা তাঁর দিদির দেওর ফরমান এবং আদনান নামে অন্য এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন অপরাধে ব্যবহৃত দু’টি ছুরি ও দু’টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসনপুর থানার পুলিশ আধিকারিক রাজেশকুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, মেহরাজ তাঁর স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানতে পেরে গিয়েছিলেন সম্প্রতি। সেই সম্পর্কের বিরোধিতা করেন তিনি। এর পরেই রুহি এবং ফরমান মিলে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে প্রথমে মেহরাজকে অচৈতন্য করা হয়। এর পর সহযোগী আদনানের সঙ্গে মিলে তাঁকে কুপিয়ে খুন করেন রুহি।

জানা গিয়েছে, স্বামীকে খুনের পর মনগড়া গল্প বলে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন রুহি। তিনি দাবি করেছিলেন, ঘুমোনোর সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁর ঘরে ঢুকে দুল এবং মোবাইল চুরি করে। মেহরাজ বাধা দিতে গেলে তাঁকে খুন করে ওই দুষ্কৃতীরা। পুরো বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের কাছে রুহি কেঁদেকেটে শোকপ্রকাশের মিথ্যা নাটক করেন বলেও অভিযোগ।

তবে মিথ্যাচার ধোপে টেকেনি। তদন্ত চলাকালীন রুহির বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। মেহরাজ এবং রুহির মধ্যে চলা দাম্পত্য কলহের কথা পুলিশকে জানান প্রতিবেশী এবং আত্মীয়েরা। একই সঙ্গে পুলিশ জানতে পারে, ঝামেলার কারণে অভিযুক্ত তাঁর স্বামীকে খাবার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে খাবার জন্য আত্মীয়দের দরজায় কড়া নাড়তে হত মেহরাজকে। এর পরেই রুহিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পুলিশি জেরার মুখে স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করেন তিনি। এর পরেই রুহি, তাঁর প্রেমিক এবং তৃতীয় সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয় বলে খবর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মেহরাজ এবং রুহির দু’টি পুত্রসন্তান রয়েছে। পাঁচ বছর বয়সি ফারহান এবং তিন বছর বয়সি আলি। মেহরাজকে যখন খুন করা হয়, তখন ফারহান ঘরের মধ্যে ঘুমোচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হইচই পড়েছে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন