ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
সংসারে মন নেই স্বামীর। সময়-অসময়ে মদ্যপান করে বাড়িতে অশান্তি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গেও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। দিনের পর দিন স্বামীর এমন আচরণ আর সহ্য করতে পারছিলেন না তরুণী। তাই স্বামীকে খাটিয়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেললেন তিনি। পুত্রের অবস্থা দেখে শাশুড়ি চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দিলে পড়শিরা জড়ো হন। তরুণীর আপত্তি সত্ত্বেও দড়ির বাঁধন খুলে তাঁর স্বামীকে মুক্ত করেন সকলে। পরে স্থানীয় পুলিশের কাছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন শাশুড়ি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘সিরাজ নুরানি’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক তরুণের দুই হাত দড়ি দিয়ে খাটিয়ার সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন তাঁর স্ত্রী। তরুণের মা বাঁধন খোলার চেষ্টা করলেও সেই কাজে বাধা দিচ্ছেন তরুণী। বার বার শাশুড়িকে বলতে থাকেন, ‘‘পুলিশকে খবর দাও। আমি ভয় পাই না।’’
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই ঘটনাটি সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের হামিদপুর গ্রামে ঘটেছে। তরুণের নাম প্রদীপ। তাঁর স্ত্রীর নাম সোনি। হামিদপুরের বাসিন্দা প্রদীপের সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় সোনির। তরুণীর অভিযোগ, মদ খেয়ে প্রায়শই বাড়িতে অশান্তি করেন প্রদীপ। এমনকি, প্রতিবেশীদেরও উত্ত্যক্ত করেন তিনি। ঘটনার দিন সকালে প্রদীপের সঙ্গে সাংসারিক কারণেই বচসা শুরু হয় সোনির।
স্বামী যেন মদ খেতে বাইরে যেতে না পারেন, তাই জোর করে খাটিয়ার সঙ্গে তাঁর হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন সোনি। প্রদীপের মা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেন। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়িতে জড়ো হন কয়েক জন প্রতিবেশী। সোনির আপত্তি সত্ত্বেও প্রদীপকে বাঁধনমুক্ত করেন তাঁরা। পরে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রদীপের মা। তাঁর ছেলেকে যে বেঁধে রাখা হয়েছিল, প্রমাণস্বরূপ ভিডিয়োটি পুলিশকে দেখান তিনি। এমনকি, সোনি হাতে দেশি পিস্তল ধরে রয়েছেন, এমন একটি ছবিও পুলিশকে দেন প্রদীপের মা। তাঁর অভিযোগ, গত দু’বছর ধরে প্রদীপকে মারধর করছেন সোনি।
কখনও পিস্তল দেখিয়ে তাঁর ছেলেকে ভয়ও দেখান পুত্রবধূ। তবে তন্নতন্ন করে খুঁজেও বাড়িতে পিস্তলটি খুঁজে পাননি প্রদীপের মা। তাঁর আরও দাবি, সোনির বিরুদ্ধে তিনি এর আগেও বহু বার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু প্রমাণ দিতে না পারায় কোনও লাভ হয়নি। এ বার ছবি এবং ভিডিয়ো প্রমাণ হিসাবে পুলিশকে দিয়েছেন তিনি। সোনির বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে, সে বিষয়ে আশাবাদী প্রদীপের মা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।