বন্ধুদের সঙ্গে ইরানীয় বালক। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুল আসতে পারেনি সে। অনেক দিন কোনও খোঁজ না পাওয়ায় চিন্তায় ঘুম উড়েছিল সহপাঠীদের। তবে দীর্ঘ ৪২ দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হল আট বছর বয়সি ইরানীয় বালক। তাকে দেখেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ল খুদে বন্ধুরা। অনেকে তাকে জড়িয়ে কেঁদেও ফেলল। আবেগঘন তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। সমাজমাধ্যমে বহু মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাদিন নামের ইরানীয় শিশুটি পরিবারের সঙ্গে চিনে থাকে। পূর্ব চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের শাওশিং-এর একটি স্কুলে পড়াশোনা করে সে। সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে ইরান গিয়েছিল রাদিন। কয়েক দিনের মধ্যে ফেরারও কথা ছিল। কিন্তু সে সময় আমেরিকা-ইজ়রায়েল সঙ্গে ইরানের সংঘাত বাধার কারণে রাদিনের চিনে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এক মাসের বেশি সময় ইরানেই আটকে যায় সে এবং তার পরিবার।
দীর্ঘ সময় রাদিনের কোনও খবর পায়নি তার স্কুল। শিক্ষকেরা ছোট্ট পড়ুয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রাদিনের সহপাঠীরাও গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন ছিল। অনেকে আশঙ্কা করছিল, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বন্ধু হয়তো আর কোনও দিন ফিরবে না। অবশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষ খবর পান, রাদিন এবং তার পরিবার নিরাপদে রয়েছে। এর পর ইরানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার কারণে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর পরিবার-সহ চিনে ফিরতে সক্ষম হয় রাদিন।
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রাদিন স্কুলে ফিরে তার শ্রেণিকক্ষে পুনরায় প্রবেশ করতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার শিক্ষক এবং বন্ধুরা। তাকে দেখামাত্রই সহপাঠীরা আলিঙ্গন করে ঘিরে ধরে তাকে। অনেকে কেঁদেও ফেলে। রাদিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় বেশ কিছু খুদে পড়ুয়াকে। বন্ধুদের দেখে হাসি ফোটে রাদিনের মুখেও। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভি়ডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘সিজিটিএন’ নামে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, “এটাই মানবতা। ভাবুন তো, সংঘাতে জড়িয়ে থাকা দেশগুলির নেতারা যদি ওই শিশুদের মতো হতেন, তা হলে পৃথিবীটা বসবাসের জন্য আরও ভাল একটি জায়গায় পরিণত হত।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘চোখে জল এল। শিশুটি নিরাপদে ফিরে এসেছে জেনে আমি খুব আনন্দিত। পরিবার এবং বন্ধুদের সান্নিধ্যে থাকার আনন্দ সত্যিই হৃদয়স্পর্শী।”