Bengaluru

থানায় দেওয়া হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বরে ব্যক্তিগত মেসেজ পুরুষ পুলিশ অফিসারের, বার্তা দেখে বিস্মিত তরুণী, হইচই নেটপাড়ায়

পোস্টে কথোপকথনের তিনটি স্ক্রিনশট যোগ করেছেন তরুণী। ওই পোস্টে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিক বলে দাবি করা মেসেজের প্রেরক ওই তরুণীকে ‘হাই’ লিখে মেসেজ পাঠান। এর জবাবে তরুণী ‘হ্যালো’ বলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৭:৪৬
Woman from Bengaluru claims that male police officer text her on WhatsApp without any reason

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

বেঙ্গালুরুর এক তরুণী অভিযোগ করেছেন, এক বছরেরও বেশি আগে একটি অভিযোগ দায়ের করার জন্য তিনি যে হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বরটি দিয়েছিলেন, সেই নম্বরেই এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে মেসেজ পাঠিয়েছেন। সমাজমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে তরুণীর অভিযোগ, ওই পুলিশ আধিকারিক হোয়াট্‌সঅ্যাপের ‘অ্যাডভান্সড প্রাইভেসি’ বা উন্নত গোপনীয়তা ফিচারটি চালু করেছিলেন— যা বাড়তি নিরাপত্তা দেয় এবং যার ফলে কেউ মিডিয়া ফাইল স্বয়ংক্রিয় ভাবে সংরক্ষণ বা চ্যাট হিস্ট্রি এক্সপোর্ট করতে পারেন না। এ ছাড়া তিনি অ্যাপটিতে ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ (নির্দিষ্ট সময় পর বার্তা মুছে যাওয়ার) ফিচারটিও চালু করেছিলেন বলে দাবি।

Advertisement

এক্সে করা পোস্টে তরুণী লিখেছেন, ‘‘গত ৩১/৮/২৫ তারিখে আমি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আজ এক পুলিশ আধিকারিক গোপনীয়তার সেটিংস এমন ভাবে পরিবর্তন করলেন যাতে চ্যাটটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সাময়িক হয়ে যায়। এর পর তিনি আমাকে এমন ভাবে মেসেজ পাঠালেন যেন আমরা বন্ধু।’’ বিষয়টি স্বাভাবিক কি না তা-ও বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে ওই পোস্টে জানতে চেয়েছেন তরুণী।

পোস্টে কথোপকথনের তিনটি স্ক্রিনশট যোগ করেছেন তরুণী। ওই পোস্ট দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিক বলে দাবি করা মেসেজের প্রেরক ওই তরুণীকে ‘হাই’ লিখে মেসেজ পাঠান। এর জবাবে তরুণী ‘হ্যালো’ বলেন। জানতে চান, ‘‘আপনি আমাকে কেন মেসেজ পাঠাচ্ছেন?’’ তখন অপর দিকে থাকা প্রেরক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘আমার মেসেজ পাঠানোয় কোনও সমস্যা আছে কি?’’ এর পর ওই তরুণী কোনও কারণ ছাড়াই এক জনকে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হঠাৎ করে কেন তাঁকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে, তা জানতে চান। উত্তর আসে, ‘‘তেমন কিছু না। হঠাৎ আপনার কথা মনে পড়ল, তাই একটা মেসেজ করলাম।” জবাবে তরুণী বললেন, “আপনি কি অপরিচিত পুরুষদের কথাও এ ভাবে মনে রাখেন এবং তাঁদেরও এমন মেসেজ পাঠান, না কি কেবল মহিলাদের ক্ষেত্রেই এমনটা করেন?” তাঁর এই মন্তব্যের পর ওই পুলিশ আধিকারিক ক্ষমা চাইলেও তরুণী নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “এক জন পুরুষ পুলিশ আধিকারিক হিসাবে কোনও নারীকে এ ভাবে মেসেজ করা আপনার উচিত হয়নি। এমন আচরণ করার সাহস কী ভাবে হল আপনার?”

ভাইরাল ওই পোস্ট করা হয়েছে ‘জাহ্নবী দেশাই’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। হইচই পড়েছে। নেটাগরিকেরা পুলিশের কাছ থেকেও মহিলাদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্য দিকে কেউ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করে দাবি করেছেন যে, ওই তরুণীর উচিত ছিল নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, “অভিযোগ দায়ের করতে গেলে এই পুলিশ আধিকারিকেরা পুরুষদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কোথায় বাস করছি আমরা! এক জন পুলিশ আধিকারিকের সাহস কী ভাবে হয় মোবাইল নম্বরে কাউকে এ ভাবে মেসেজ করার?” অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘এক পুলিশ অফিসারের জন্য এটা সত্যিই লজ্জাজনক। নিশ্চয়ই তিনি অন্য নারীদের সঙ্গেও এমনটা করেছেন। তাঁর নিজের থানাতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করুন। তা হলে তিনি আর কখনও এমনটা করবেন না।”

পোস্টটি বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের নজরেও এসেছে। বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, “এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।” জবাবে ওই তরুণী লিখেছেন, “এখনও পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং কে নিয়েছেন? ঘটনা যাচাই করতে বা অন্য কোনও বিষয়ে আমার কাছে তো কোনও ফোন আসেনি। দয়া করে মনে রাখবেন, এই লোকটির কাছে আমার বাড়ির ঠিকানা রয়েছে।”

Advertisement
আরও পড়ুন