বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
তড়িঘড়ি পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করতে বিল আনা হল বিধানসভায়। ধ্বনি ভোটে তা পাশ করানো হল, অধিবেশনের একেবারে শেষ লগ্নে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ হয়ে গেল। আচমকাই অধিবেশনের মধ্যাহ্নভোজের সময় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, অধিবেশনের শেষ লগ্নে আরও একটি বিল আনা হবে। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ নামাঙ্কিত বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। বিলের পক্ষে বলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানা। বিরোধীদের তরফে এই বিলের বিপক্ষে বলেন দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস।
বিলের নির্যাস, এ বার থেকে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সহ-সভাপতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে তিন বছরের আগে কোনও অনাস্থা যাবে না। এত দিন আড়াই বছর অন্তর ওই সমস্ত পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার আইন ছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত-সংশোধনী এনে সেই সময়সীমা আড়াই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হল। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ বলেছেন, ‘‘ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের স্থিরতা বহাল রাখতেই নতুন এই সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে।’’ তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই সংশোধনী বিলটি বিধানসভায় শাসকদলের পেশ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি পরিষদীয় দল।
বিজেপি বিধায়ক অরূপ বলেন, ‘‘আসলে পঞ্চায়েতের স্থিরতা নয়, বিধানসভা ভোটের আগে নিজেদের দলের স্থিরতা বজায় রাখতেই জরুরি ভিত্তিতে এই ধরনের বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে। আচমকাই সময়সীমা বাড়িয়ে আড়াই বছর থেকে তিন বছর করা হল কেন? আর এক মাসের মধ্যেই তো রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাবে। তাই এই তড়িঘড়ি তৎপরতা দেখেই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জুলাই-অগস্ট মাস জুড়ে পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি গঠন করা হয়েছে। যদি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করে দেন, তা হলে আড়াই বছরের বদলে তিন বছরের আগে আর অনাস্থা আনা সম্ভব হবে না। তাই বিল পাশের পরেও রাজ্য সরকারকে তাকিয়ে থাকতে হবে লোকভবনের অনুমোদনের দিকেই।