—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কলিং বেল বাজবে। দরজা খুললেই বন্দুক ঠেকিয়ে ঘরে ঢোকা হবে। কয়েক মিনিটের ‘অপারেশন।’ লুট করে বেরিয়ে যাবে। এমনই ছক কষছিল ডাকাতদল। তবে বাড়ির কর্তা এবং গিন্নির কাছে শেষমেশ হার মানল ডাকাতদল। এখন হুগলির মগরায় সিসিটিভি দেখে ডাকাতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। মগরা থানার দিগসুই গ্রামের এক চিকিৎসকের বাড়ি লুটের চেষ্টা করেছিল ডাকাতদল। চিকিৎসক সোমনাথ ঘোষ এবং স্ত্রী ইন্দিরা ঘোষ তখন বাড়িতেই ছিলেন। শীতের রাতে চা পানের আয়োজন করছিলেন গিন্নি। কর্তা বসেছিলেন। ঠিক তখনই বাজে কলিং বেল।
এত রাতে কে এলেন? কোনও রোগী কি? দরজা পুরোপুরি না খুলে হালকা ফাঁক করে দেখার চেষ্টা করেন চিকিৎসক। ঠিক তখনই এক ডাকাত তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। ভয় না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে গৃহকর্তা তার হাত চেপে ধরেন। কর্তার চিৎকারে গিন্নি বুঝতে পারেন কোনও একটা গোলমাল হয়েছে। ঝটপট পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চায়ের জন্য ফোটানো গরম জল ছুড়ে দেন দরজার ফাঁক দিয়ে। দরজার বাইরে থেকে ভেসে আসে বিকট আর্তনাদ। কিছু ক্ষণের মধ্যে কয়েক জনের দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার শব্দ। এর পর থানায় অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক।
সোমনাথ বলেন, ‘‘রাত ৮টা ১০ মিনিটে লোডশেডিং হয়েছিল। ওই সময়ে কলিংবেল বাজে। মাঝেমধ্যে এই সময়ে রোগী আসেন। আমি উঠে গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখি তিন জন দাঁড়িয়ে আছে। রোগী এসেছেন ভেবে আমি দরজাটা একটু খুলি। তখনই একটা ছেলে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে বলে, ‘দরজা খোল।’ দরজায় ধাক্কা দিয়ে তিন জন ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। আমি মরিয়া হয়ে ওর হাতটা চেপে ধরি। আমার স্ত্রী তখন চা করছিলেন। উনি গরম জল নিয়ে এসে ওদের উপর ছিটিয়ে দেন। পালিয়ে যায় ওরা।’’
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ডাকাতদলকে ধরতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।