RG Kar Case

এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বিচারক, সিবিআই আদালতে পিছিয়ে গেল আরজি কর দুর্নীতি মামলার চার্জগঠন

বুধবার আরজি কর দুর্নীতি মামলার শুনানি ছিল আলিপুরে সিবিআই ২ নম্বর বিশেষ আদালতে। কিন্তু এসআইআরের কাজে সংশ্লিষ্ট বিচারক যুক্ত রয়েছেন। তাই চার্জে ছিলেন ১ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৮
CBI court postpons charge frame against Akhtar Ali, one of the accused in RG Kar Hospital financial irregularities case

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-র নথিযাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজে ব্যস্ত রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক। এই পরিস্থিতিতে বুধবার আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আখতার আলিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন পিছিয়ে গেল। বুধবার মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন আখতার। সেই আবেদনের বিরোধিতা করে সিবিআই।

Advertisement

বুধবার আরজি কর দুর্নীতি মামলার শুনানি ছিল আলিপুরে সিবিআই ২ নম্বর বিশেষ আদালতে। কিন্তু এসআইআরের কাজে সংশ্লিষ্ট বিচারক যুক্ত রয়েছেন। তাই চার্জে ছিলেন ১ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক। এই মামলায় চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছিল আগেই। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতারের পক্ষ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয় আদালতে। সিবিআইয়ের তরফ থেকে বিরোধিতা করা হয়। কিন্তু চার্জগঠন না করে ভারপ্রাপ্ত বিচারক জানিয়েছেন, ২৭ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

বর্তমানে জেলে রয়েছেন আখতার। শশীকান্ত চন্দক ছাড়া এই মামলায় সন্দীপ ঘোষ-সহ বাকিরাও জেলে রয়েছেন। আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) চার্জশিটে আখতার এবং শশীকান্তকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখিয়েছিল সিবিআই। তাদের দাবি ছিল, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ এবং আখতার প্রথম দিকে একই সঙ্গে এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর আগে এই মামলায় সন্দীপ, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা, আফসার আলি খান, আশিস পাণ্ডের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল সিবিআই। সেই চার্জশিটের ভিত্তিতে চার্জগঠনও হয়ে গিয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মামলার আগের শুনানিতে আদালতে মৌখিক ভাবে সিবিআই জানিয়েছিল, দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। তবে প্রয়োজনে আগামী দিনে আবারও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। আর তা নির্ভর করছে ফরেনসিক রিপোর্টের উপর। সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, এই মামলায় আর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে কি না! আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই হাসপাতালেরই তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার। ২০২৩ সালে সেই অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে নেমে সিবিআই জানায়, সেই আখতারও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত!

ওই মামলার তদন্তে আখতারকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করে সিবিআই। বার বার সমন পাঠিয়ে তলবও করে। কিন্তু অভিযোগ, প্রায় প্রতি বারই হাজিরা এড়িয়েছেন আখতার। আদালতে সিবিআই দাবি করে, তদন্তের স্বার্থে বার বার আখতারকে সমন পাঠিয়ে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু হাজিরা দেননি তিনি। সিবিআই অভিযোগ করে, অসুস্থতাকে ঢাল করে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন আখতার। রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আখতারের জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় আলিপুর আদালত। সেই নির্দেশ মেনে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আখতার। আদালত তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

Advertisement
আরও পড়ুন