Mamata Banerjee DA Announcement

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া পুরনো ডিএ দেওয়া শুরু মার্চ মাস থেকেই, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৮
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। —ফাইল চিত্র।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে। রবিবারই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। বিকেল ৪টেয় দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করা হবে। তার ঠিক আগে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

বিকেল ৩টে ৫ মিনিটে সমাজমাধ্যমে ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণার পোস্টটি করেন মমতা। তাতে লিখেছেন, ‘‘আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার তার সকল কর্মচারী, পেনশনভোগী, লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারী, পঞ্চায়েত-পুরসভার কর্মী ও পেনশনভোগীকে দেওয়া কথা রেখেছে। তাঁরা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই পেতে শুরু করবেন।’’ রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বকেয়া অর্থপ্রদানের পদ্ধতি ও সময়সূচি নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলেও জানান মমতা।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্টই। বলা হয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। বাকি অর্থ কী ভাবে মেটানো হবে, তা ঠিক করতে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে আদালতই একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে ফের আদালতে আবেদন করে। এখনও সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য ওঠেনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটঘোষণার ঠিক আগে বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ-র জন্য আন্দোলন দীর্ঘ দিনের। ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো অর্থাৎ রোপা-২০০৯ অনুযায়ী, ডিএ দেওয়ার দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমান হারে ডিএ-র দাবিও তুলেছেন তাঁরা। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিলে এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। তা দিতেই হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালতও ডিএ দেওয়ার পক্ষেই রায় দেয়। তার পর বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনাও চালিয়েছে রাজ্য সরকার। ভোটঘোষণার আগে ডিএ-র ঘোষণা প্রসঙ্গে সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অরডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘গত ১৩ মার্চ আমরা রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করেছিলাম। সেই আন্দোলনের ফলেই রাজ্য সরকার চাপে পড়ে আমাদের ডিএ দিতে বাধ্য হয়েছে।’’

মমতার ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘কী ভয়ঙ্কর প্রহসন! নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার ঠিক কয়েক মিনিট আগে হঠাৎ করে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কথা মনে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ‘২০২৬-এর মার্চ থেকে’ দেওয়া হবে? বছরের পর বছর রাজ্যের কোষাগার লুট করার পর, কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার পর এটা আপনার শেষ মুহূর্তের মরিয়া রাজনৈতিক কৌশল।’’ শুভেন্দুর দাবি, বাস্তবে এক পয়সাও দেবে না রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘‘এটা মানুষকে বোকা বানানোর জন্য আপনার অর্থ দফতরের একটা বিজ্ঞপ্তিমাত্র। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রহসন। পশ্চিমবঙ্গ দেখছে।’’

ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন, ‘‘আমরা বরাবর বলে এসেছি, সময়- সুযোগ পেলে অবশ্যই সরকারি কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মুখ্যমন্ত্রী মিটিয়ে দেবেন। তাই সব দাবি তিনি মেনে নিয়েছেন। আমরা তাঁর উপর আস্থা রেখে যে সঠিক কাজ করেছিলাম, তা আবার প্রমাণ হয়ে গেল।’’ বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘নির্বাচন ঘোষণার প্রাক্কালে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীরাই এই বকেয়া ডিএ পাবেন। সেই অবস্থান থেকেও সরকার পিছিয়ে এল। ১৩ তারিখের ধর্মঘটের চাপে সরকার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ও বিভিন্ন বোর্ড কর্পোরেশনের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হল।’’ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘সরকার চাপে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদি তাদের ডিএ দেওয়ার সদিচ্ছা থাকত, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই আমাদের দাবি মিটিয়ে দেওয়া হত। ১৩ মার্চ রাজ্যব্যাপী আমরা ‘বন্‌ধ মোবারক’ কর্মসূচি পালন করেছি। তাতেই চাপে পড়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন