Winter in West Bengal

দিনের বেলায় পুরুলিয়ার থেকে বেশি ঠান্ডা কলকাতায়! পশ্চিমে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, দক্ষিণে জাঁকিয়ে শীত আর কত দিন

আগামী শনিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলা থাকবে কুয়াশাচ্ছন্ন। দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটারে নেমে যেতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৩
আগামী কয়েক দিন গোটা রাজ্যে থাকবে কুয়াশার দাপট।

আগামী কয়েক দিন গোটা রাজ্যে থাকবে কুয়াশার দাপট। — ফাইল চিত্র।

শুধু রাতে নয়, দিনেও কাঁপছেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। বিশেষত শহর কলকাতার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার দিনের বেলা পুরুলিয়া, শ্রীনিকেতনের থেকে বেশি ঠান্ডা ছিল কলকাতায়। এর জন্য আলিপুর আবহাওয়া দফতর কুয়াশাকেই দায়ী করেছে। তারা বলছে, আগামী দিনে আরও জাঁকিয়ে শীত পড়বে দক্ষিণবঙ্গে। সেই শীত স্থায়ী হবে অন্তত আরও পাঁচ দিন। একই সঙ্গে ভোগাবে কুয়াশা। উত্তরবঙ্গেও দাপট থাকবে কুয়াশার। দৃশ্যমানতা নামতে পারে অনেকটাই।

Advertisement

হাওয়া অফিস বলছে, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ বা দিনের তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে পুরুলিয়ার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরুলিয়ার রাতের তাপমাত্রা ছিল ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ে বীরভূমের শ্রীনিকেতনে। সেখানেও মঙ্গলবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কলকাতার থেকে বেশি। সেই শ্রীনিকেতনে রাতের তাপমাত্রা ছিল ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে কলকাতার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গের বসিরহাট, ক্যানিংয়ে দিনের তাপমাত্রা ছিল কলকাতার থেকে কম। বাকি সব জায়গায় দিনের তাপমাত্রা ছিল কলকাতার মতো বা তার চেয়ে বেশি।

কেন কলকাতায় দিনের তাপমাত্রা পশ্চিমের জেলাগুলির থেকে কম, যেখানে ওই জেলাগুলিতে আগামী দিনে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে? হাওয়া অফিস বলছে, পশ্চিমের জেলাগুলিতে মঙ্গলবার কুয়াশা কম ছিল। আগামী দিনেও সেখানে কুয়াশা কম থাকবে। অন্য দিকে, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রাজ্যে দক্ষিণ-পূর্বের জেলাগুলি গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে। সেখানে জলীয় বাষ্পও বেশি। আগামী কয়েক দিন ওই অংশে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস রয়েছে। সে কারণেই পশ্চিমের জেলাগুলির থেকেও বেশি কাঁপুনি ধরছে কলকাতার হাওয়ায়।

আগামী শনিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলা থাকবে কুয়াশাচ্ছন্ন। দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটারে নেমে যেতে পারে। তবে কুয়াশার জন্য সতর্কতা জারি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। উত্তরবঙ্গের আট জেলার জন্যও ওই পূর্বাভাস রয়েছে। তার মধ্যে বুধবার উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেই দৃশ্যমানতা নামতে পারে ১৯৯ থেকে ৫০ মিটারে। বুধবার সেখানে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে ঘন কুয়াশার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আগামী চার দিন রাজ্যে রাতের তাপমাত্রার হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার পরে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে তাপমাত্রা। আগামী তিন দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে। উত্তরবঙ্গে দিনের তাপমাত্রা আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের থেকে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে।

মঙ্গলবার থেকে পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পূর্ব বর্ধমানের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বীরভূমে শুক্রবার সকাল পর্যন্তও শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও উত্তরবঙ্গে কোথাও এখনই শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই।

শৈত্যপ্রবাহের জন্য নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকে। শৈত্যপ্রবাহের জন্য কোনও এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার কম হতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি বা তারও বেশি কমতে হবে। এক দিন এই মাপকাঠি পূরণ করলেই হয় না। দ্বিতীয় দিনেও মাপকাঠি পূরণ হচ্ছে কি না দেখা হয়। তার পরে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায় ‘শীতল দিন’ থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। কোনও জায়গায় ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা-ও স্থির করার জন্য নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কোনও এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি বা তার কম থাকতে হবে। তবে শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে যেমন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কতটা কমল, তা মাপা হয়, এ ক্ষেত্রে তেমন নয়। এ ক্ষেত্রে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি বা তার বেশি কমছে কি না, তা দেখা হয়। তবেই এই জায়গায় ‘শীতল দিন’ তৈরি হয়েছে বলা যায়।

মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় চলবে এই ‘শীতল দিন’। দুই ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে এই পরিস্থিতি চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বাকি পাঁচ জেলায় শুক্রবার পর্যন্ত এই ‘শীতল দিন’ চলবে।

Advertisement
আরও পড়ুন