SIR in West Bengal

লঘু দোষে ‘গুরুদণ্ড’ কেন? চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ প্রত্যাহার হোক, কমিশনকে চিঠি দিল নবান্ন

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় রাজ্য। কমিশন সূত্রে খবর, চিঠিতে এজির পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৭

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

লঘু দোষে ‘গুরুদণ্ড’ কেন? রাজ্যের চার আধিকারিক-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার করা হোক, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে চিঠি দিয়ে জানালেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের সিনিয়র স্পেশ্যাল কমিশনার। সিইও দফতর সূত্রে খবর, ওই চিঠি কমিশনের দিল্লি অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisement

বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওই দুই জেলার জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১৫ দিন কেটে গেলেও কমিশনের ওই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। ইতিমধ্যে সিইও দফতর থেকে জেলাশাসকদের দু’বার ‘রিমাইন্ডার’ দেওয়া হয়েছে।

এর পরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর পরামর্শ নেয় রাজ্য। কমিশন সূত্রে খবর, চিঠিতে এজির পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। তাই এফআইআর করার নির্দেশ প্রত্যাহার করুক কমিশন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকার কাজ যাঁদের তত্ত্বাবধানে চলছিল, সেই দুই ইআরও (নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) এবং দুই এইআরও-র (সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) বিরুদ্ধে কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এ ছাড়াও সেই তালিকায় ছিলেন ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত এক কর্মীও। অভিযোগকে কেন্দ্র করে হইচই শুরু হতেই পদক্ষেপ করে কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দেয় কমিশন। দু’বার মনোজকে চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট দুই জেলাশাসককে এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন।

বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। উল্লিখিত চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও, সুরজিৎ হালদার নামে ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।

Advertisement
আরও পড়ুন