Israel Lebanon Peace Talk

এ বার সরাসরি কথা বলবেন ইজ়রায়েল এবং লেবাননের নেতৃত্ব! ঘোষণা ট্রাম্পের, বুধবারও হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ

গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। তাতে ইজ়রায়েল এবং লেবাননের সঙ্গে ছিল আমেরিকাও। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ওই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৭
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে এ বার সরাসরি কথা বলবেন ইজ়রায়েল এবং লেবাননের নেতৃত্ব। বুধবার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, প্রায় ৩৪ বছর পরে দু’দেশের নেতারা আবার কথা বলবেন। যদিও প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইজ়রায়েল বা লেবাননের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement

আমেরিকার মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছিল ইজ়রায়েল এবং লেবানন। ওয়াশিংটনে ত্রিপাক্ষিক ওই বৈঠকের পরে ইজ়রায়েল এবং লেবানন উভয়েই জানিয়েছিল, তারা আগামী দিনে আরও কথাবার্তা বলবে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে প্রায় ৩৪ বছর কোনও কথা হয়নি। আগামিকাল সেই কথা হবে। এটা একটা দারুণ ব্যাপার!”

সংক্ষিপ্ত ওই পোস্টে দু’দেশের নেতৃত্ব বলতে ট্রাম্প কাদের কথা বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এই পোস্টের বিষয়ে রয়টার্স ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতরে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। একই রকম ভাবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেও কোনও তাৎক্ষণিক জবাব মেলেনি। ফলে দু’দেশের কাদের মধ্যে কথাবার্তা হবে, সেটি এখনও জানা যায়নি।

এর আগে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। তাতে ইজ়রায়েল এবং লেবাননের সঙ্গে ছিল আমেরিকাও। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ওই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলেন। দাবি করা হচ্ছে, ১৯৯৩ সালের পরে সেটিই ছিল লেবানন এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে প্রথম এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকায় নিযুক্ত দু’দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। লেবাননের মার্কিন রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। ওই দিনের বৈঠকের পরে মার্কিন বিদেশদফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দু’দেশের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা শুরু করাই ছিল ওই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

আপাতত দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে আমেরিকা এবং ইরানের। তবে পশ্চিম এশিয়ার অপর প্রান্তে এখনও সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষের অভিমুখ বদলে গিয়েছে লেবাননের দিকে। সে দেশের দক্ষিণ প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আগেই এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ চলছে। ২০২৩ সালে হামাস গোষ্ঠীর উপর ইজ়রায়েলের হামলার পর থেকেই হিজ়বুল্লার সঙ্গেও সংঘর্ষ শুরু হয় তেল আভিভের। ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী এবং ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ আরও বৃদ্ধি পায়।

সম্প্রতি সেই সংঘর্ষের আঁচ গিয়ে পড়েছে লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও। সেখানেও হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। আমেরিকার দাবি, ইরানের সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবাননের প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল না। একই দাবি ইজ়রায়েলেরও। বুধবারও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়েছে তেল আভিভ। ওই হামলায় তিন জন স্বাস্থ্যকর্মী (প্যারামেডিক)-এর মৃত্যু হয়। ওই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেই মনে করছে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

Advertisement
আরও পড়ুন