মাইক্রোসফ্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেট্স। —ফাইল চিত্র।
যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিতর্কে ফের মুখ খুললেন বিল গেট্স। তাঁর প্রতিষ্ঠান গেট্স ফাউন্ডেশনের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। মাইক্রোসফ্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ওই বৈঠকে জানিয়েছেন, তিনি যে কাজ করেছেন, তার দায়ও তিনি নিজেই নিচ্ছেন। রয়টার্সকে এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থার এক মুখপাত্র।
এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ ছিল, সে কথা আগেই স্বীকার করে নিয়েছেন গেট্স। অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওঁর সঙ্গে কাটানো প্রত্যেকটি মিনিটের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি দুঃখিত।’’ যদিও মহিলাসঙ্গের কথা ওই সাক্ষাৎকারে অস্বীকার করেন তিনি। মাইক্রোসফ্ট প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে এই বিতর্কের মাঝেই বুধবার ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানায়, এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিতর্কে গেট্স ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এ-ও বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি কোনও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত ছিলেন না।
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর ওই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ‘রয়টার্স’ যোগাযোগ করে গেট্স ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্রের সঙ্গে। কর্মীদের কাছে গেট্স ক্ষমা চেয়েছেন কি না, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সংস্থার মুখপাত্র। তবে তিনি জানান, টাউন হল বৈঠকে গেট্স কর্মীদের জানিয়েছেন, যা ঘটেছে, তার দায় তিনিই নিচ্ছেন।
মার্কিন বিচারবিভাগীয় দফতর ইতিমধ্যে এপস্টিনের কিছু নথি প্রকাশ্যে এনেছে। তা থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, এপস্টিনের কারাদণ্ডের পরে তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েক বার দেখা করেছেন গেট্স। গেট্স ফাউন্ডেশনের সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনার জন্যই তাঁরা দেখা করতেন, এমন আভাসও মিলেছে। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ অনুযায়ী, বৈঠকে সংস্থার কর্মীদের গেট্স জানান, এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা এবং সংস্থাকে এর সঙ্গে জড়ানো একটি বড় ভুল ছিল। তিনি বলেন, “আমি বাকিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারণ আমার ভুলের জন্য তাঁদের নিয়েও টানাটানি হচ্ছে।”
ওই প্রতিবেদনে এ-ও দাবি করা হচ্ছে যে, বৈঠকে গেট্স স্বীকার করেছেন দুই রাশিয়ান মহিলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সে বিষয়ে এপস্টিন পরে জানতে পেরেছিলেন। তবে এপস্টিনকে ঘিরে বিতর্কের সঙ্গে ওই মহিলাদের কোনও যোগ ছিল না। বৈঠকে গেট্স বলেছেন, “আমি কোনও অন্যায় কাজ করিনি। আমি অন্যায় কিছু দেখিনি।”
গেট্স ফাউন্ডেশনের এক মুখপাত্র ‘রয়টার্স’কে জানান, সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে এক টাউন হল বৈঠকে এপস্টিন-ফাইল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে মুখ খুলেছেন গেট্স। ওই মুখপাত্র বলেন, “টাউন হলে বিল খোলাখুলি ভাবে কথা বলেছেন। বেশ কয়েকটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন এবং তাঁর কাজের দায়ও নিয়েছেন।”