আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার সঙ্গে শান্তি-আলোচনায় যোগ দেওয়া ইরানের দুই শীর্ষ আধিকারিককে হত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত যে রিপোর্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্স প্রকাশ করেছিল, তা নিয়ে এ বার মুখ খুলল ইজ়রায়েল। ওই রিপোর্টকে ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর একটি বিবৃতি দিয়ে মার্কিন রিপোর্টের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইম্সের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইজ়রায়েল। গত এপ্রিলে সেই হামলা হতে পারে বলে মার্কিন আধিকারিকেরা আশঙ্কা করেছিলেন। এমনকি, তা নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। আমেরিকার আশঙ্কা ছিল, মধ্যস্থতার মাঝে এমন প্রাণঘাতী কোনও হামলা হলে সমগ্র আলোচনাপ্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। জলে যেতে পারে যাবতীয় পরিশ্রম। শুধু তা-ই নয়, সে ক্ষেত্রে ফের পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার সম্ভাবনা ছিল। তাই ইজ়রায়েলের পরিকল্পনা আঁচ করে আগেভাগে ওই অঞ্চলের দেশগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। কয়েক জন প্রাক্তন এবং বর্তমান মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইম্স।
মার্কিন রিপোর্টের এই দাবি উড়িয়ে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী দফতর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘ইজ়রায়েল এবং ইরানি মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইম্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি বরাবরের মতোই ভুয়ো। এটি বাস্তবের বিচ্যুতি।’’
উল্লেখ্য, ইরানে ক্ষমতাসীন সরকার ফেলে দিতে চায় ইজ়রায়েল। একাধিক বার সেই দাবি তারা তুলেছে। তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক বোঝাপড়াও নেতানিয়াহুরা তাই ভাল চোখে দেখছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে নেতানিয়াহুকে সতর্কও করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সমঝোতার চুক্তিগুলি কী ভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তা নিয়ে কারিগরি স্তরে আলোচনা চলছে। এই অবস্থায় ইজ়রায়েলের কোনও চক্রান্ত বা ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও পদক্ষেপ পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে। আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়ায় ইরানের তরফে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা যে দু’জন নিয়েছেন, তাঁরা আরাঘচি এবং কালিবাফ। তাই ইজ়রায়েলের চক্রান্তের প্রাথমিক নিশানা হতে পারেন এই দুই নেতা, মনে করেছিল আমেরিকা। সেই দাবি অস্বীকার করল ইজ়রায়েল।