রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিভের একটি বহুতল আবাসন। ছবি: রয়টার্স।
ইউক্রেনে রাতভর হামলা চালাল রাশিয়া। কিভের তরফে দাবি করা হয়েছে, দেশের শক্তিকেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় কিভে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি নিজের এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। শুধু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, অন্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও হামলা চালানো হয়। মোট ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ছাড়াও সাড়ে চারশো ড্রোন দিয়েও হামলা চালানো হয়। মূলত সুমি এবং খারকিভ, নিপ্রো, ওডেসা এবং ভিনিতসিয়া অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে।
জ়েলেনস্কির কথায়, ‘‘রুশ হামলার পর পরই ওই সব অঞ্চলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। তবে দেশের শক্তিকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানোর জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে রুশ বাহিনী। এ ছাড়াও বসতি এলাকাগুলি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হচ্ছে। বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। ওই এলাকা থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরানো হচ্ছে।’’
ইউক্রেনে এখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কির অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার উপর যদি চাপ সৃষ্টি করা না যায়, তা হলে এই যুদ্ধ কোনও দিনই শেষ হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘মস্কো এখন জঙ্গিদের মতো আচরণ করছে। তাই তাদের থামাতে গেলে চাপ সৃষ্টির প্রয়োজন। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলিও এই বিষয়টি বুঝতে পারছে। তাই তারা আমাদের নানা ভাবে সাহায্য করছে।’’
রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ দীর্ঘ দিনের। মাঝে সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সাল থেকে ফের এই দুই দেশ যুদ্ধে রত। উভয়পক্ষের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এই যুদ্ধে। অনেকের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ তিনি থামিয়ে দেবেন। একাধিক বার জ়েলেনস্কি এবং পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু সাফল্য মেলেনি।