নেহাত উত্তেজনার বশে নয়। বন্ধুর ঠাট্টা ও কটুক্তি সইতে না পেরে ঠান্ডা মাথাতেই খুনের ছক কষেছিল রিজেন্ট পার্কে কিশোর খুনে অভিযুক্ত যুবক। সে জন্য দিন কয়েক আগে ছুরিও কিনেছিল ওই যুবক। ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পরে এমনটাই দাবি করল পুলিশ। তবে খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি রবিবার রাত পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত ওই যুবকের নাম শ্রীদাম বিশ্বাস। সে খুন হওয়া কিশোর জয়দেব মণ্ডলের বন্ধু। দু’জনেরই বাড়ি রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার আনন্দপল্লিতে। শনিবার রাতে রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকারই চাকদা জোড়াপুকুরের কাছে জয়দেবের পেটে ছুরি মারে ধৃত শ্রীদাম। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় শ্রীদাম। ওই দিন গভীর রাতে আনন্দপল্লির একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। শ্রীদাম পেশায় আনাজ বিক্রেতা।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, ওই দু’জনের বন্ধুত্ব অনেক দিনের। এলাকার অনেকের মতোই জয়দেব অভিযুক্ত শ্রীদামকে ‘পাগল’ বলে ঠাট্টা করত। সকলের সামনে জয়দেবের ওই ঠাট্টা পছন্দ করত না ধৃত যুবক। যা নিয়ে দু’জনের মধ্যে এর আগে বচসাও হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, মাস দুয়েক আগে মৃত কিশোর শ্রীদামের সঙ্গে ঠাট্টা করায় দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেই সময়ে অভিযুক্ত শ্রীদাম বন্ধুকে ‘দেখে’ নেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ। মৃত কিশোরের দিদি তানিয়া মণ্ডলও একই অভিযোগ করেছেন। শুধু ওই ঘটনাই নয়, কয়েক দিন আগেও শ্রীদাম তাঁর ভাইকে শাসিয়েছিল বলে শনিবার দাবি করেছেন তিনি।

ধৃতকে জেরা করার পরে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বন্ধুর ঠাট্টা ক্রমশও বাড়তে থাকায় শ্রীদাম ঠিক করে জয়দেবকে উচিত শিক্ষা দেবে। সেই মতো কয়েক দিন আগে একটি ছুরিও কেনে সে। কেনার পর থেকেই শ্রীদাম নিজেরে কাছে রাখত ছুরিটি। সেটি দিয়েই শনিবার রাতে খুন করে সে। তবে ছুরির বিষয়ে জয়দেবকে কিছু জানতে দেয়নি শ্রীদাম। কোন দোকান থেকে ওই ছুরিটি কেনা হয়েছিল, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশও।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ জয়দেব শ্রীদামকে ডাকে মদ খাওয়ার জন্য। মদ কেনার জন্য বেরিয়ে ফের দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। জোড়াপুকুরের বাগানের মধ্যে দুই বন্ধুর বচসা চলাকালীন শ্রীদাম নিজের কাছে থাকা ছুরি বার করে জয়দেবের বুকের নীচে ঢুকিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় জয়দেব চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এলাকার বাসিন্দা গৌরী নস্কর রবিবার জানান, চিৎকার শুনে বাড়ির বাইরে এসে তিনি দেখেন জয়দেবের পেট থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই জ্ঞান হারায় সে। তবে তার আগে শ্রীদাম তাকে খুন করেছে বলে দাবি করে জয়দেব। ধৃতকে রবিবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফজতের নির্দেশ দেন।

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (এসএসডি) বাদানা বরুণ চন্দ্রশেখর বলেন, ‘‘পুরনো শত্রুতার জেরে প্রতিশোধ নিতেই বন্ধুর হাতে খুন হতে হয়েছে ওই কিশোরকে। জেরায় অভিযুক্ত খুনের কথা স্বীকারও করেছে।’’ লালবাজারের এক কর্তা জানান, এর আগে ভবানীপুরে একটি ব্যাঙ্কের এক নিরাপত্তারক্ষীকে ঠাট্টা করে উত্যক্ত করার মাসুল দিতে হয়েছিল ব্যাঙ্কের দুই কর্মীকে। ঠাট্টা সহ্য না করতে পেরে, ওই রক্ষী গুলি করে খুন করেছিল দু’জনকে। রিজেন্ট পার্কেও একই ঘটনা ঘটল।