জলাশয়ে ভয়ঙ্কর আগুনের জেরে চাঞ্চল্য বেঙ্গালুরুতে। ধোঁয়ার মেঘে ঢেকে গেল বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ। বিপজ্জনক হয়ে উঠল যান চলাচল। মাত্রাতিরিক্র দূষণের কারণে আগুন লেগেছে হ্রদটিতে। দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। তবে প্রশাসন বলছে, দূষণের কারণে নয়, হ্রদের পাড়ের শুকনো ঘাস এবং শুকিয়ে যাওয়া কচুরিপানার স্তূপ থেকে আগুন ছড়িয়েছে। আগুন যে কারণেই ছড়াক, বেলান্দুর লেক এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে বেঙ্গালুরুর কাছে।

বেলান্দুর লেক থেকে উঠে আসা দূষিত ফেনায় এ ভাবেই মাঝেমধ্যে ঢেকে যায় রাস্তা। ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ বেলান্দুর লেক বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে বড় হৃদগুলির একটি। কিন্তু আশপাশের বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য, বিষাক্ত রাসয়নিক এবং আবর্জনা এসে জমা হয় ওই জলাশয়ে। ফলে জলাশয়টি অত্যন্ত দূষিত। বেলান্দুর লেকের দূষিত জলে বিপুল পরিমাণ ফেনা তৈরি হয় এবং সেই ফেনায় সংলগ্ন রাস্তা ঢেকে যায় প্রায়ই। রাসায়নিক মিশ্রিত দূষিত জলে আগুনের শিখাও মাঝেমধ্যেই লকলক করে ওঠে বলে স্থানায় বাসিন্দাদের দাবি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ যে ভয়ঙ্কর আগুন বেলান্দুর লেকে ছড়িয়ে পড়ে, সে রকম আগুন আগে দেখা যায়নি। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দমকল বাহিনী পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।

জ্বলছে বেলান্দুর লেক। ছবি: সংগৃহীত।

জলাশয়ের আগুনের ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল আকাশ, বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল রাস্তাও। ধোঁয়ায় ঢাকা রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাবে যান চলাচল করেছে দীর্ঘক্ষণ। দীর্ঘ দিন ধরে বেলান্দুর লেকের দূষণ বাড়তে বাড়তে পরিস্থিতি আজ এত ভয়াবহ হয়েছে বলে অনেকের দাবি। কিন্তু দমকলের পদস্থ কর্তা রবি চৌহান জানিয়েছেন, দূষণ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি। জলাশয়ের ধারের শুকনো ঘাস এবং মরা কচুরিপানায় আগুন লেগেই এই অগ্নিকাণ্ড।

আরও পড়ুন: ভারতকে খোঁচা দিয়ে শুভেচ্ছা জানাল চিন

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাফাইকর্মীরা মাঝেমধ্যেই লেকের ধারে শুকনো ঘাস এবং জঞ্জালের স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেন। সেই আগুন আদৌ নিভল কি না, সে দিকে আর নজর রাখা হয় না। সে রকম কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।