বন্ধ সফল। এবং শান্তিপূর্ণ ভাবেই হয়েছে। এমন দাবি করে নির্ধারিত সময়ের আগেই তা প্রত্যাহার করে নিল মহারাষ্ট্রের দলিত সংগঠনগুলি। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এ কথা ঘোষণা করেন প্রকাশ অম্বেডকর।
বিআর অম্বেডকরের নাতি প্রকাশই মূলত এ দিন গোটা মহারাষ্ট্র জুড়েই বন্ধের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁকে সমর্থন করেছিল প্রায় ২৫০টি দলিত সংগঠন। দিনের শেষে প্রকাশ জানিয়েছেন, বন্ধ শান্তিপূর্ণ এবং সর্বাত্মক হওয়ায় আর তা দীর্ঘায়িত করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাই বন্ধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।
তবে প্রকাশের এই শান্তিপূর্ণ তত্ত্ব স্বীকার করেনি রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তির কথা তারা জানিয়েছে। বাস-ট্রাক ভাঙচুরের পাশাপাশি রেল এবং পথ অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশের দাবি।
আরও পড়ুন
দলিত সভায় সংঘর্ষ, উত্তপ্ত মহারাষ্ট্র
বিক্ষোভের মুখ। ছবি: রয়টার্স।
গত তিন দিন ধরেই দলিত বিক্ষোভে উত্তাল গোটা মহারাষ্ট্র। আর সে কারণেই এ দিনের বন্ধকে কেন্দ্র করে আগাম সতর্কতা হিসাবে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সকাল থেকেই ভারিপ বহুজন মহাসঙ্ঘের ডাকা এই বন্ধে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় মুম্বই, পুণে-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে। বন্ধ ছিল বেশির ভাগ স্কুল, কলেজ। সকালে ঠাণে এলাকায় ট্রেন বন্ধের চেষ্টা করেন একদল বন্ধ সমর্থক। বেশ কিছু ক্ষণ ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গোটা কুড়ি সরকারি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মুম্বইয়ে বেশির ভাগ দোকানপাট, অফিসই বন্ধ ছিল। পুণে ও নাগপুরেও একই চিত্র দেখা যায়।
#Maharashtra: Two Thane Municipal Transport buses and an auto-rickshaw vandalized in Chendani Koliwada area, four passengers injured #BhimaKoregaonViolence pic.twitter.com/dma7yAejdU
— ANI (@ANI) January 3, 2018
সোমবার পুণের ভিমা কোরেগাঁও এলাকায় দলিতদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। তার জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে পুণে, নাগপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায়। ব্যাপক অশান্তির জেরে আহমেদনগর, ঔরঙ্গাবাদ-সহ নানা এলাকার বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। পুণে, মুম্বই এবং ঠাণের সঙ্গে মহারাষ্ট্রের অন্যান্য জেলার সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর পর মঙ্গলবার সেই উত্তেজনা মুম্বই এসে পৌঁছয়।
আরও পড়ুন
কোরেগাঁও যুদ্ধ দলিতের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠল কী ভাবে