চার বছর ধরে বিহারের বাহুবলী নেতা মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ! যদিও তিনি ‘বহাল তবিয়তে’ বিহারেরই সিওয়ান জেলে। সাংবাদিক হত্যার তদন্তে নেমে আরজেডির প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে এমনই তথ্য মিলেছে। পুলিশ আঙুল তুলছে জেল কর্তৃপক্ষের দিকেই। আর জেল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এমনকী মাসখানেক আগে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সওয়াল করা এক আইনজীবীর দেহরক্ষীও তুলে নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আইনজীবী সিওয়ান ছেড়েছেন।
কোর্ট সূত্রেরর খবর, ২০১২-য় সিওয়ান আদালতে আবেদন করে সাহাবুদ্দিন জানান, আর্থিক কারণে আইনজীবী রাখার সঙ্গতি নাকি তাঁর নেই। আদালত তাঁর মামলার দেখভালের জন্য আইনজীবীর ব্যবস্থা করে। তবে সরকারি তালিকায় থাকা আইনজীবী নিতে অস্বীকার করেন সাহাবুদ্দিন। ফের আবেদন করেন তিনি। তাতেও সম্মতি দিয়ে দেয় আদালত! নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পটনা হাইকোর্টে আবেদন করে সরকার। হাইকোর্ট সাহাবুদ্দিনকে হাজির হওয়ার নোটিশ জারি করে। কিন্তু গত চার বছরেও হাইকোর্টের সেই নোটিশ সিওয়ান জেলে থাকা বাহুবলী নেতার হাতে পৌঁছয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি মামলার বিচারও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন শুধুমাত্র একটি মামলাতেই জেলবন্দি রয়েছেন বিহারের এই বাহুবলী। এই মামলায় জামিন পেলেই মুক্ত হবেন প্রাক্তন সাংসদ।
ঘটনার কথা মেনে নিয়েছেন সাহাবুদ্দিনের মামলার ভারপ্রাপ্ত বিশেষ সরকারি আইনজীবী জয়প্রকাশ সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘নোটিশ কেন পৌঁছয়নি তা দেখা হবে।’’ অভিযোগ, ঘটনার পিছনে পুলিশ-জেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ রয়েছে। এ দিন অবশ্য অভিযান চালান সাংবাদিক-হত্যার দায়িত্বে থাকা তদন্তকারী কর্তারা। জেলের ভিতর থেকে ছ’টি মোবাইল এবং দু’টি চাকু উদ্ধার হয়েছে। তবে সাহাবুদ্দিনের সেলে অভিযান চালানো হয়েছে কিনা তা নিয়ে কেউ মুখ খোলেনি। তবে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে আসা ৪০ জনকে আজ জেরা করছে পুলিশ।