বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ থেকে শুরু করে প্রণব মুখোপাধ্যায়— ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এমন রহস্য-রোমাঞ্চ বোধ হয় আগে কোনও বারই দেখা যায়নি।

প্রণববাবুর অবসর গ্রহণের যখন মাস খানেকও বাকি নেই, তখনও শাসক দলের বহু শীর্ষ নেতা জানেন না তাঁদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীটি ঠিক কে? সনিয়া গাঁধী ও সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে দেখা করলেও প্রার্থীর নাম বলেননি বেঙ্কাইয়া নায়ডু এবং রাজনাথ সিংহ। যা দেখে ঠোঁটকাটা ইয়েচুরি বলেই দিয়েছেন, ‘‘বিজেপির প্রার্থী কে, ওই দুই নেতা আদৌ জানেন তো!’’ যত দিন যাচ্ছে ধারণা প্রবল হচ্ছে— নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ ছাড়া সম্ভবত বিজেপির কোনও নেতাই জানেন না, এনডিএ-র প্রার্থী কে।

প্রার্থীর নাম যখন চূড়ান্ত নয়, তখন নানা নাম নিয়ে রাজধানী উত্তাল। কত নামের কত রকম ঘুড়ি যে উড়ছে! স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ফোন, ‘‘দিল্লিতে আছেন তো! আগামী সাত দিন দিল্লিতেই থাকুন। কথা আছে।’’ কী কথা? উত্তেজিত সুমিত্রা। ইনদওর যাত্রা বাতিল করে বসে আছেন দিল্লিতে। স্পিকারের ঘনিষ্ঠ অফিসারদের জল্পনা— বলা যায় না, সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রাইসিনা হিলসে যদি যাওয়া যায়! আরও খবর পেতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে নিয়মিত মধ্যাহ্নভোজ সারতে যাচ্ছেন স্পিকারের সচিব ডি কে ভাল্লা।

নামের মিছিল। অমিতাভ বচ্চন থেকে মেট্রো রেল প্রকল্পের সফল রূপকার ই শ্রীধরন, বা এম এস স্বামীনাথন। উঠছে লালকৃষ্ণ আডবাণী বা মোহন ভাগবতের নামও। অথচ কেউই কিছু জানেন না। শিকে ছেঁড়ার আশায় শরদ পওয়ার এক বার দৌড়চ্ছেন সনিয়ার কাছে, এক বার মোদীর কাছে। তাঁরই দলের নেতা প্রফুল্ল পটেল আবার বিরোধী নেতাদের বৈঠকে বলে দিলেন, ‘‘পুরনো আরএসএস কর্মী মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল রাম নাইকের কথাই আসলে মোদী ভাবছেন।’’

আরও পড়ুন:বিরোধী শিবির ভাঙাই এখন লক্ষ্য অমিতের

প্রণব মুখোপাধ্যায় কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। বাক্স-প্যাঁটরা বাঁধা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এই প্রথম একটি সময় আসছে, যখন তাঁকে স্নান সেরে কোনও অফিস ঘরে আর যেতে হবে না। ব্যক্তিগত কাগজপত্র গোছগাছ করতে গিয়ে দেখা যায়, আধার কার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। হই হই কাণ্ড। রাইসিনা হিলসের পাইক-পেয়াদা-বরকন্দাজ এখন হন্যে হয়ে প্রণববাবুর আধার কার্ড খুঁজছে। আর তা খুঁজতে খুঁজতেই এক নিরাপত্তা কর্মীর চোখ চকচক করে ওঠে— হঠাৎ আধারের খোঁজ কেন? তবে কি প্রণববাবু ফের?

দিল্লির বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বাঘা বাঘা সাংবাদিকেরা কুপোকাত। এ খবর ‘ব্রেক’ করা যাচ্ছে না। সুষমা স্বরাজকে মনোনয়ন কমিটিতে রাখা হয়নি। তবে কি সুষমা? গল্পের গরু গাছে উঠে ডালে ডালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজেপি সুষমার নাম দিলে সনিয়া গাঁধী কি মেনে নেবেন? তখন কি বসুন্ধরা রাজে বিদেশমন্ত্রী হবেন, আর ওম মাথুরকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজস্থানে? ইন্ডিয়া হ্যাবিট্যাট সেন্টার, তাজ মানসিংহ হোটেলের কফি শপ থেকে শুরু করে নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লক, রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ী— যাঁর সঙ্গে যাঁর দেখা হচ্ছে, প্রশ্ন একটাই। তা হলে কে?

ফারুক আবদুল্লা নাকি? না। না। আরএসএস মানবে না। রাম মাধব রাষ্ট্রপতি ভবনে তিন দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে থেকে গিয়েছেন। মোহন ভাগবত মধ্যাহ্নভোজন করলেন প্রণববাবুর সঙ্গে। তবে কি আরএসএস বঙ্গসন্তান সম্পর্কে নরম? মন্তব্য— ‘‘আরে নাঃ! ২৮২টি আসন নিয়ে বিজেপি সঙ্ঘের প্রার্থী দেবে না, তা কি হয়?’’

শেষ পাতে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের মন্তব্য, ‘‘আপাতত এ’টি বারমুডা ট্র্যাঙ্গেলের চেয়েও জটিল এক ধাঁধা!’’