আবার ধাক্কা গুজরাত কংগ্রেসে। দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও তিন কংগ্রেস বিধায়ক। ইস্তফা দিলেন বিধায়ক পদ থেকেও। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসের বিধায়ক তালিকা থেকে খসে পড়ল ৬টি নাম। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৫৭ থেকে কমে পৌঁছল ৫১-তে।
আগামী ৮ অগস্ট রাজ্যসভা নির্বাচন হবে গুজরাতে। তার আগে যে ভাবে ভাঙতে শুরু করেছে সে রাজ্যের কংগ্রেস, সনিয়া গাঁধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ পটেলের জয় নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় কংগ্রেস। গত সপ্তাহেই বর্ষীয়ান নেতা তথা গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শঙ্করসিন বাঘেলা কংগ্রেস ছেড়েছেন। বাঘেলার ধাক্কাতেই এ বার কংগ্রেস টালমাটাল হয়ে পড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
যে তিন জন আজ বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে চলে গেলেন, তাঁরা হলেন মানসিন চৌহান, রামসিন পারমার এবং ছানাভাই চৌধুরী। এঁদের মধ্যে প্রথম জন শঙ্করসিন বাঘেলার ক্যাবিনেটে মন্ত্রীও ছিলেন। গতকাল, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার যে তিন জন ইস্তফা দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন বলবন্তসিন রাজপুত, তেজশ্রীবেন পটেল এবং প্রহ্লাদ পটেল। এঁদের মধ্যে বলবন্তসিন রাজপুত হলেন শঙ্করসিন বাঘেলার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তিনি গুজরাত বিধানসভায় এত দিন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতকও ছিলেন।
গুজরাত থেকে কি রাজ্যসভায় ফেরা হবে এ যাত্রা? দুশ্চিন্তায় আহমেদ পটেল। দুশ্চিন্তায় ১০ জনপথও। —ফাইল চিত্র।
বলবন্তসিন রাজপুতকে আজ রাজ্যসভা নির্বাচনে নিজেদের তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও দিয়ে দিয়েছে বিজেপি। ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভায় বিজেপির দখলে ১২১টি আসন। কংগ্রেসের দখলে ছিল ৫৭টি। ৬ বিধায়কের পদত্যাগের পর কংগ্রেস নেমে এসেছে ৫১-তে। ২টি আসন রয়েছে এনসিপি-র দখলে। রয়েছেন ১ জেডি(ইউ) বিধায়ক, ১ নির্দল বিধায়ক।
আরও পড়ুন: কেন বিজেপির সঙ্গে? সাফাই দিলেন নীতীশ, জয় আস্থা ভোটে
গুজরাতে তিনটি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন। নির্বাচিত হওয়ার জন্য ৪৭টি ভোট পেতে হবে। অমিত শাহ এবং স্মৃতি ইরানিকে জিতিয়েও বিজেপির হাতে থাকবে অতিরিক্ত ২৭টি ভোট। তৃতীয় প্রার্থী বলবন্তসিন রাজপুত সেই ভোট তো পাবেনই। এনসিপি, জেডি(ইউ) এবং নির্দল বিধায়কের ভোটও তাঁর দিকেই টানার চেষ্টা হচ্ছে বলে খবর। তাতেও অবশ্য জয়ের জায়গায় পৌঁছবেন না বলবন্তসিন। সে ক্ষেত্রে তিনি ৩১টি ভোট পাবেন। কিন্তু বিজেপি দাবি করছে, কংগ্রেসে আরও ভাঙন আসন্ন। ৮ অগস্ট ক্রস ভোটিং হতে পারে বলেও জোর জল্পনা। সে ক্ষেত্রে আহমেদ পটেল ৪৭টি ভোট জোগাড় করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে কংগ্রেস। গুজরাতে আহমেদ পটেলের পরাজয় যদি হয়, তা হলে সে রাজ্যের কংগ্রেসের জন্য তা বড় ধাক্কা তো হবেই। গাঁধী পরিবারও গুজরাতে খুব বড় ধাক্কার সম্মুখীন হবে বলে রাজনৈতিক শিবির মনে করছে।