আমার-আপনার মুঠোর মধ্যেই এ বার এসে ধরা দিতে পারে ‘ভিনগ্রহীদের আলো’!

না, আর কষ্ট করে টেলিস্কোপে চোখ লাগিয়ে গোটা ব্রহ্মাণ্ড ঢুঁড়ে-ফুঁড়ে খুঁজে বেড়াতে হবে না ‘ভিনগ্রহীদের আলো’!

না দেখতে পেলে, ‘আঙুর ফল টক’-এর মতো আমাকে, আপনাকে আর বলতে হবে না, ‘যত্তসব গালগল্পো’!

আমার-আপনার মোবাইলে, স্মার্টফোনেই এ বার ধরা পড়তে পারে ‘ভিনগ্রহীদের আলো’! অত্যন্ত দ্রুত গতির আর অত্যন্ত অল্প আয়ুর রেডিও বিস্ফোরণ বা, ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ (এফআরবি)। আর সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’র তল্লাশে ‘ছুটে বেড়াতে’ হবে না ব্রহ্মাণ্ডের এ তল্লাটে ও তল্লাটে। এই ব্রহ্মাণ্ডে ‘আমাদের পাড়া’, আমাদের ছায়াপথ মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতেই এ বার হদিশ মিলতে পারে সেই অচেনা, অদেখা, অজানা, জন্ম-পরিচয়হীন ‘ভিনগ্রহীদের আলো’র! আর সেই অদ্ভুতুড়ে আলো ধরা দিতে পারে আমাদের মুঠোয়, আমাদের মুঠোর মধ্যে থাকা সব সময়ের স্মার্টফোনে! যা এত দিন কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।


এই সেই 'ভিনগ্রহীদের আলো' বা ফাস্ট রেডিও বার্স্ট

একেবারে হালে রীতিমতো সাড়া ফেলে দেওয়া একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। আর সেই গবেষণাপত্রটি নিয়ে তুমুল হইচই হয়েছে ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র অধিবেশনে। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম- ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্টস: দ্য অবজার্ভেশনাল কেস ফর আ গ্যালাক্টিক অরিজিন’। যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান-জার্নাল ‘মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে।


ওই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আনন্দবাজারের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল দুই আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানীর সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে এক জন বাঙালিও। এই সে দিন যিনি এই ব্রহ্মাণ্ডে প্রথম কোনও ‘ভিনগ্রহীদের আলো’ বা ফাস্ট রেডিও বার্স্টের উৎস খুঁজে বের করে হইচই ফেলে দিয়েছেন বিশ্বজুড়ে, সেই নিউ ইয়র্কের ইথাকায় কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শমী চট্টোপাধ্যায় ও মূল গবেষক তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড্যান মাওজের সঙ্গে। যোগাযোগ করা হয়েছিল সহযোগী গবেষক হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক অ্যাব্রাহাম লোয়েবের সঙ্গেও।

‘ভিনগ্রহীদের আলো’ বা ফাস্ট রেডিও বার্স্ট কী জিনিস?


মোবাইল টাওয়ার

আনন্দবাজারের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক, সহযোগী গবেষক অ্যাব্রাহাম লোয়েব ই-মেলে লিখেছেন, ‘‘এটা আদতে একটা অত্যন্ত শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ। যা গোটা ব্রহ্মাণ্ডেই ছড়িয়ে রয়েছে। আতসবাজি ফাটানো হলে যেমন হয়, তেমনই খুব শক্তিশালী, অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোর ঝলক। যাকে বলা হয়, ‘লাইট ফ্ল্যাশেস’। প্রতিদিন ব্রহ্মাণ্ডে এমন আলোর ঝলসানির ঘটনা ঘটে গড়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারটি। কিন্তু ব্রহ্মাণ্ডের অনেক দূরের সেই আতসবাজির আলোর ঝলক আমাদের চোখে খুব একটা ধরা পড়ে না। ২০০৭ সালে তা প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নজরে পড়েছিল। তার পর, ওই আবিষ্কারটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত এমন আলোর ঝলসানি সাকুল্যে ১৮টি ধরা পড়েছে টেলিস্কোপের চোখে। ব্রহ্মাণ্ডের এত শক্তিশালী, এত উজ্জ্বল আলোর ঝলসানিটা হচ্ছে কী ভাবে, গত ১০ বছর ধরে তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারা যাচ্ছিল না। অনেকেরই সন্দেহ ছিল, এখনও এমন ধারণা রয়েছে অনেকেরই যে, ওই আলোর ঝলসানিগুলির ‘কারিগর’ আসলে ভিনগ্রহীরা! তাঁরাই বোধহয় বিশাল বিশাল আতসবাজি ফাটাচ্ছেন! আর সেটাই অত শক্তিশালী, অত উজ্জ্বল আলোর ঝলক তৈরি করছে ব্রহ্মাণ্ডে। আমরা গবেষণাপত্রে বলেছি, অত দূরের গ্যালাক্সিতে হদিশ মিললে, আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি কী এমন অপরাধ করল যে, ‘আমাদের পাড়া’য় ধরা দেবে না সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’! হয়তো সেটা কালেভদ্রে ঘটতে পারে, কিন্তু ‘আমাদের পাড়া’য় একেবারেই সেটা দেখা যাবে না, তা কী ভাবে বুক ফুলিয়ে বলা যায়? আর যদি ‘আমাদের পাড়া’ মানে, মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’ দেখা যায়, তা হলে সেটা হবে অনেক বেশি জোরালো (‘লাউড’)। এতটাই যে, তা মোবাইল ফোনের গ্লোবাল নেটওয়ার্কে ধরা পড়বেই পড়বে। এমনকী, ছোট রেডিও রিসিভারও তা অনায়াসেই ‘শুনে ফেলতে পারে’! এর আগে ফাস্ট রেডিও বার্স্টগুলির হদিশ পাওয়া গিয়েছিল, তাদের সবক’টিরই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্কগুলি যা ছিল, সেই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আমাদের মোবাইল ফোন, ওয়াই-ফাইয়ে আকছারই ধরা পড়ে। আমাদের গবেষণা বলছে, প্রতি ৩০ বছর থেকে দেড় হাজার বছরের মধ্যে অন্তত এমন একটি ফাস্ট রেডিও বার্স্ট বা ‘ভিনগ্রহীদের আলো’ দেখা যেতেই পারে আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে। আর হালে যেমন একটি রিপিটেড ফাস্ট রেডিও বার্স্টের উৎস আবিষ্কৃত হয়েছে (যার কৃতিত্ব বাঙালি বিজ্ঞানী শমী চট্টোপাধ্যায়ের) তা যদি আমাদের গ্যালাক্সিতেও থাকে, তা হলে কয়েকশো’ বছরের ব্যবধানে অন্তত তা আমাদের গ্যালাক্সিতেও আবার দেখা যেতে পারে। এমনকী, তা দেখা যেতে পারে সপ্তাহে সপ্তাহে বা বছরে বছরে (যেহেতু রিপিটেড)।’’

কোথা থেকে আসছে সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’? কী ভাবে তা তৈরি হচ্ছে?

যে ভাবে মোবাইল টাওয়ার থেকে রেডিও তরঙ্গ আসে মোবাইলে

আনন্দবাজারের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শমী চট্টোপাধ্যায় টেলিফোনে বলেছেন, ‘‘কী ভাবে আলোর ঝলসানিগুলি তৈরি হচ্ছে, তা যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝে উঠতে পারছিলেন না, তার অন্যতম কারণ ছিল, এক বার সেগুলি আমাদের নজরে আসার পর সেই ঝলসানি আর আমরা দেখতে পারছিলাম না। সেগুলি যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিল! উধাও, হাপিশ হয়ে যাচ্ছিল! এর থেকে আমাদের অনেকেরই এই ধারণা জন্মেছিল, ব্রহ্মাণ্ডে নিশ্চয়ই কোথাও কোনও বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে। কোনও বিস্ফোরণ হলে যেমন হয়, তার পর পরই বেরিয়ে আসে আলোর ঝলক। একটা ঝলসানি। তার পরেই সব নিভে যায়। আবার অন্ধকারে ভরে যায় চার পাশ। গত ১০ বছরে এমন আলোর ঝলসানি যে ১৭ বার দেখা গিয়েছে মহাকাশের বিভিন্ন প্রান্তে, তার প্রত্যেকটিই এক বার দেখা যাওয়ার পর আর আমাদের নজরে আসেনি। ফলে, যাঁরা বিশ্বাস করেন ভিনগ্রহীরা এখনও বেঁচে-বর্তে, বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই ব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না-কোথাও, তাঁরা এমন প্রচারও করতে শুরু করে দিয়েছিলেন, ওই সব আদতে ভিনগ্রহীদেরই কাজ! তাঁরাই ‘আতসবাজি’ ফাটাচ্ছেন! আমরা যে আলোর ঝলসানিটা (ফাস্ট রেডিও বার্স্ট) দেখতে পেয়েছি, সেটা একেবারেই অভিনব। গত ১০ বছরে এমন যে ১৭টি আলোর ঝলসানির ঘটনা টেলিস্কোপের নজরে পড়েছে, তার সবক’টিই এক বার ঝলসে উঠে হারিয়ে গিয়েছিল। সেগুলি ছিল ‘সিঙ্গল ফ্ল্যাশ’-এর ঘটনা। কিন্তু আমরা যে আলোর ঝলসানিটা দেখেছি, তা ছিল ‘রিপিটেড’। বার বার সেই আলোর ঝলসানিটা আমরা দেখেছি। ২০১৪-য় ‘অ্যারেসিবো’ টেলিস্কোপের ‘চোখে’ ওই আলোর ঝলসানি ধরা পড়ার খবর যখন আমরা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জানিয়েছিলাম, তখন আমরা ২০ ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে ওই আলোর ঝলসানিটা দেখেছিলাম অন্তত ৭/৮ বার। পরে ‘ভেরি লার্জ অ্যারে’ (ভিএলএ) টেলিস্কোপে আমরা মোট ৮৩ ঘণ্টায় (প্রায় সাড়ে তিন দিন) ওই আলোর ঝলসানিটা কম করে ৯ বার দেখতে পেয়েছি। এই ‘রিপিটেড’ আলোর ঝলসানিটা গত ১০ বছরে আর দেখা যায়নি। আলোর ঝলসানিটা যখন ‘রিপিটেড’ হচ্ছে, তখন আমরা নিশ্চিত হই, এটা কোনও বিস্ফোরণ থেকে হচ্ছে না। কারণ, কোনও বিস্ফোরণ থেকে আলোর ঝলসানি হলে তা কখনও ‘রিপিটেড’ হতে পারে না। এক বার সেই আলোর ঝলসানি দেখতে পাওয়ার পরেই তা হারিয়ে যাবে। উধাও, হাপিস হয়ে যাবে। আর সেই আলোর প্রতিটি ঝলসানিই খুব বেশি হলে এক মিলি-সেকেন্ডের চেয়ে স্থায়ী হয় না। এত কম সময় স্থায়ী হয় বলেই এই রেডিও বার্স্ট বা রেডিও তরঙ্গকে অত সহজে আমরা দেখতে পাই না। আমরা বিজ্ঞানীরা এটাকে মোটেই ভিনগ্রহীদের জ্বালানো আলো বলে মনে করি না। পরে ‘জেমিনি’ টেলিস্কোপের ‘চোখ’ দিয়ে আমরা দেখতে পেয়েছি, ওই আলো রয়েছে একটি ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি বা বামন ছায়াপথে। আমাদের ‘মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি’তে এমন আলোর ঝলসানি দেখতে পাওয়া যাবে না বলেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। ওই ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সিটি রয়েছে আমাদের থেকে কম করে ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। মানে, ৩০০ কোটি বছর ধরে ওই আলোর ঝলসানিটা আমাদের এই ব্রহ্মাণ্ডে ‘অলিম্পিকের মশাল’-এর মতো এখান থেকে ওখানে ছুটে বেড়াচ্ছে। তার মানে, ‘বিগ ব্যাং’-এর জেরে ব্রহ্মাণ্ড-সৃষ্টির প্রায় এক হাজার কোটি বছর পর ওই আলোর ঝলসানিটা প্রথম দেখা গিয়েছিল। আর তা এখনও ৩০০ কোটি বছর পরেও দেখা যাচ্ছে! যার মানে, সেই আলোর ঝলসানিটা কী প্রচণ্ড শক্তিশালী আর উজ্জ্বল ছিল! ওই রেডিও তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ১ থেকে ২ গিগাহার্ৎজ বা ২ থেকে ৪ গিগাহার্ৎজ। আর তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার থেকে ১০ সেন্টিমিটারের মধ্যে। একেবারে আলোর গতিতেই ছোটে এই তরঙ্গ। আর মূলত তা আলোক-কণা ‘ফোটন’ দিয়েই তৈরি। একটা সূর্যের মোট আয়ুষ্কালে যতটা শক্তির নিঃসরণ হয়, তাকে ১০-এর পিঠে ৩৮টা শূন্য বসিয়ে যে সংখ্যাটা হয়, তা দিয়ে গুণ করলে শক্তির যে পরিমাণ হয়, ওই আলোর ঝলসানি থেকে প্রতি মিলি-সেকেন্ডে তৈরি হয় সেই বিপুল পরিমাণ শক্তি। না হলে ৩০০ কোটি বছর ধরে জ্বলতে পারে ওই আলোর ঝলসানি! আর তা ব্রহ্মাণ্ডে কি এতটা পথ পেরিয়ে এসে এখনও অতটা উজ্জ্বলতা ঘরে রাখতে পারে।’’

আরও পড়ুন- কোথা থেকে আসে রেডিও তরঙ্গ, ধাঁধার জট খুললেন কলকাতার শমী

আমাদের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনে কী ভাবে দেখা যেতে পারে সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’?

রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ গবেষণাপত্রটি

আনন্দবাজারের পাঠানো প্রশ্নের জবাবে মূল গবেষক তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড্যান মাওজ ই-মেলে লিখেছেন, ‘‘আমাদের বাজার-চলতি স্মার্টফোনের সঙ্গেই এমন একটি অ্যাপ জুড়ে দেওয়া যেতে পারে, যাতে ধরা দেবে এই মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিরই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’। বা, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যেতে পারে এমন একটি যন্ত্র, যা সেই ‘ভিনগ্রহীদের আলো’কে পৌঁছে দিতে পারে আমাদের মুঠোয়। ১০ ডলারের বেশি খরচ হবে না তাতে।’’

তবে এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত?

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শমী চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘ভাবনাটা খুবই ভাল। ইন্টারেস্টিং। তবে তা বাস্তবায়িত করার অনেক অসুবিধা রয়েছে। আর তাই সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেকটাই কম বলে মনে হচ্ছে। অনেক এফআরবি যেমন আছে, তেমনই রয়েছে বহু কোটি গ্যালাক্সিও। প্রতি এক হাজার বছরে কোনও একটা গ্যালাক্সিতে হয়তো অমন ‘ভিনগ্রহীদের আলো’ বড়জোড় একটি দেখা যেতে পারে। আমাদের গ্যালাক্সিতে তার দেখা পাওয়ার আশা করতে হলে প্রতি ১০০ বছরে একটি বা দু’টি সুপারনোভা বিস্ফোরণ হতে হবে। কিন্তু আমাদের মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতে অমন সুপারনোভা বিস্ফোরণ ১৬০৪ সালের পর এখনও পর্যন্ত আর দেখা যায়নি। তাই আমাদের গ্যালাক্সিতে এমন ‘ভিনগ্রহীদের আলো’র হদিশ মেলার সম্ভাবনাটা একটু কম বলেই আমার মনে হচ্ছে।’’