বিশ্বের নানা জায়গায় পালিত হওয়া দুর্গাপুজোগুলির তালিকায় দ্রুত নিজের জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ সুইডেনের হেলসিংবর্গ দুর্গোৎসব।
এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন 'সম্বন্ধ'। প্রসঙ্গত, সুইডিশ শব্দ Samband–এর অর্থ হল - সম্পর্ক! সেই থেকেই সংগঠনের এই নামকরণ।
বিদেশের মাটিতে আয়োজিত এই পুজোর বয়স মাত্র ৬ বছর। এ বার উদযাপনের থিম 'মাটি' বা 'মৃত্তিকা'।
উদ্যোক্তাদের ব্যাখ্যা, মাটি যেমন যুদ্ধের কারণ, তেমনই আবার এই মাটিই উর্বরতা, সৃষ্টি ও সহনশীলতার প্রতীক। সেই কারণেই এ বছর পুজোয় এই থিম ভাবা হয়েছে।
প্রতি বছর সংগঠনের প্রায় ১৫০ জন সদস্য যোগ দেন এই আয়োজনে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না। পুজোর অনুষ্ঠান চলবে তিন দিন ধরে।
অন্যান্য প্রবাসী পুজোর মতো এখানেও পুজো হয় ফাইবারের প্রতিমায়। সেই প্রতিমা যায় কলকাতা থেকে।
যাবতীয় রীতিনীতি ও পরম্পরা মেনেই পুজো করা হয়। তবে প্রতিমার প্রতীকী বিসর্জন দেওয়া হয়। এবং প্রতিমা সংগ্রহ করে রেখে দেওয়া হয় পরবর্তী বছরের পুজোর জন্য।
এখানকার শারদোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হল চণ্ডীপাঠ ও কুমারী পুজো, যা শুনতে এবং দেখতে আসেন স্থানীয় সুইডিশরাও। এমনকী, ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও পুজোয় যোগ দেন।
কন্যা সন্তানকে দেবী রূপে পুজো করার রীতি এই পাশ্চাত্য দেশের নাগরিকদেরও মন ছুঁয়ে যায়। বাঙালির এই সংস্কৃতি তাঁদেরও মুগ্ধ করে। তাঁরা মন দিয়ে শোনেন চণ্ডীপাঠ।
পুজোর আরও একটি আকর্ষণ হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, তাঁদের আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিতরা যোগদান করেন। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।