তিনি চতুর্ভুজা, পরমাসুন্দরী। বাঁ হাতে শঙ্খ ও ধনুক, ডান হাতে চক্র ও পঞ্চবাণ।
কিন্তু সিংহের উপর অধিষ্ঠাত্রী দেবীর পদতলে কেন হাতির কাটামুণ্ড? জানেন কি এর নেপথ্যের কাহিনি?
শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুসারে, দেবী দুর্গার সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে মহিষাসুর মায়াবলে বিভিন্ন পশুর রূপ ধারণ করে দেবীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঠিক এমন সময়েই এক বার এক বিরাটাকার হাতির চেহারা ধারণ করে দেবীকে আক্রমণ করতে আসেন তিনি।
তখনই দেবী দুর্গা হাতির ছদ্মবেশে থাকা মহিষাসুরের বিনাশ করতে জগদ্ধাত্রী রূপে আবির্ভূত হন।
হাতের পঞ্চবাণ দিয়ে তিনি অসুর বধ করেন।
চক্র দিয়ে শুঁড়-সহ হাতির মাথা আলাদা করে দেন তার ধড় থেকে।
হাতির অপর নাম করী। তাই হাতির ছদ্মবেশে থাকা মহিষাসুরের নাম ‘করীন্দ্রাসুর’।
আর তাঁকে নিধনকারী দেবী জগদ্ধাত্রী পূজিত হন ‘করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী’ হিসাবে।
সেই কারণেই দেবীর বাহন সিংহকে মৃত হাতির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
তবে এই হাতি আসলে একটি রূপক। মানা হয়, এই হাতিটি নাকি অহংবোধের প্রতীক।
দেবী অহংকে বধ করে বুঝিয়েছিলেন, অহঙ্কারের মায়াজালে জড়িয়ে পড়লে বিনাশ অনিবার্য। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।