সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ কামনায় অনেকেই বাড়িতে গণেশ মূর্তি স্থাপন করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি ভরে বিধি মেনে গণপতি বাপ্পাকে ঘরে বসালে সব বাধা-বিপত্তি দূর হয়। আসে সমৃদ্ধি। হিন্দু ধর্মে গণেশকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্যর প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। তবে অনেক সময়ে অজান্তেই কিছু ভুল হয়ে যায়, যার ফলে পুজোর পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। তাই গণেশ মূর্তিকে স্থাপনের সময়ে কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি, তা জানা খুবই প্রয়োজন।
গণেশ স্থাপনের সময়ে যে যে ভুল গুলো করা চলবে না: ১. ভাঙা বা ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি স্থাপন করবেন না – গণেশের কান, শুঁড় বা হাত ভাঙা থাকলে তা অশুভ বলে মনে করা হয়।
২.পশ্চিমমুখী করে বসানো যাবে না – গণেশকে উত্তর বা পূর্বমুখী করে স্থাপন করা শ্রেয়।
৩.গণেশকে মাটিতে সরাসরি বসানো যাবে না – একটি কাঠের পাট বা আসনে লাল কাপড় বিছিয়ে তার উপরে বসাতে হবে।
৪.শুঁড় খেয়াল রাখুন – ঘরোয়া পুজোর জন্য গণেশের শুঁড় বাম দিকে থাকাই মঙ্গলজনক। ডান দিকের শুঁড়যুক্ত গণেশকে কঠোর নিয়মে পুজো করতে হয়।
৫.তুলসী পাতা অর্পণ করা যাবে না – গণেশ পুজোয় তুলসী পাতা নিষিদ্ধ। পরিবর্তে দূর্বা ঘাস, লাল ফুল, লাল চন্দন ব্যবহার করতে হয়।
৬.অপরিষ্কার স্থানে স্থাপন করা যাবে না – যে ঘরে গণেশকে বসাবেন, সেখানে সর্বদা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
৭.অশুদ্ধ মনে পুজো করা উচিত নয় – স্নান সেরে, পরিচ্ছন্ন পোশাকে, শান্ত মনে পুজো করা শ্রেয়।
৮.অসমান আসনে বসানো যাবে না – মূর্তিকে সব সময়ে সমান, স্থিতিশীল আসনে বসাতে হবে।
৯.গণেশকে একা রাখা উচিত নয় – সাধারণত গণেশ মূর্তির সঙ্গে মা লক্ষ্মী ও মা সরস্বতীর উপস্থিতিও শুভ মনে করা হয়।
১০. দুধ দিয়ে অভিষেক না করা – অনেকেই ভুল করে দুধ ঢালেন, কিন্তু মাটির মূর্তিতে জল বা দুধ দেওয়া উচিত নয়। কেবল ফুল, দূর্বা, মিষ্টি অর্পণ করাই শ্রেয়। (এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ)।