১। যে দিকেই তাকাবেন সে দিকেই ইট, কাঠ, বালির উপর নানা কারুকার্য। দর্শনার্থীদের যেন সাদরে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এগিয়ে রয়েছে মানুষের বানানো সুবিশাল হাত। পুরোদস্তুর চলছে মণ্ডপসজ্জার প্রস্তুতি।
২। চূড়ান্ত মুহুর্তের প্রস্তুতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে চলতি বছর পুজোর ‘থিম’-এর ভিড়ে এ ভাবেই নিজেদের ‘ছাপ’ ফেলতে চলেছে দমদম পার্ক তরুণ দল-এর পুজো।
৩। কিন্তু কী এই ‘ছাপ’? নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণপত্র না কি নিজেদের কাজের ছাপ? এই সব কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই দমদম পার্ক তরুণ দল-এর এই বছরের বিষয়বস্তুই হল এটি, ‘ছাপ’।
৪। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী পূর্ণেন্দু দে। তাঁর অধীনেই কাজ করছেন শিল্পী ভাস্কর সরকার। আনন্দবাজার ডট কমের সঙ্গে কাজের ফাঁকে কথা বললেন তিনি।
৫। শিল্পী ভাস্কর সরকারের কথায়, “প্রাচীন কালে গুহাচিত্রের মাধ্যমেও মানুষ নিজেদের অস্তিত্বের ছাপ ফেলে গিয়েছেন। প্রাণীরাও নিজেদের অস্তিত্বে প্রমাণ দেয়। সব মিলিয়েই আমাদের বিষয়বস্তুকে ভাবা হয়েছে।”
৬। একই ভাবে বালি ও কাঠের উপর শৈল্পিক ছাপ তো রয়েছেই। এই মণ্ডপে চোখ বোলালেই নজরে পড়বে আধুনিক ‘বায়োমেট্রিক ছাপ’-এর নিদর্শনও।
৭। শিল্পী বলেন, “ছাপ বলতে শুধু মানুষের একার অস্তিত্বকে বোঝায় না। গোটা সমাজকেও চিহ্নিত করে। এমনকী অর্থনৈতিক পরিকাঠামোটিও এই ছাপের মধ্যেই পড়ে।”
৮। সব শেষে একদম শীর্ষ স্থানে বসে রয়েছেন দেবী। যেন তিনিই ‘চূড়ান্ত ছাপ’। সেই কারণেই দেবী প্রতিমাকে পেশ করা হয়েছে একটি ‘স্ট্যাম্প’-এর রূপে।
৯। ভাস্কর সরকারের মতে, দেবীর উপস্থিতিই হল আসল ‘ছাপ’।
১০। তাঁর কথায়, “অতীতে দেখা গিয়েছে সাধকরা সাধনা করেছেন। আমরা তেমনটা না করলেও একটি মূর্তিকেই পুজো করি। কিন্তু কেউ না কেউ তো এই অস্তিত্বে প্রাণ ঢেলেছিলেন।” (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)