Proper counselling during IVF treatment

আইভিএফ মানেই কি সাফল্য! মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব ঠিক কতটা? জানালেন ডঃ অরিন্দম রথ

বিখ্যাত ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডঃ অরিন্দম রথ জানাচ্ছেন, আইভিএফ প্রক্রিয়ায় কেবল উন্নত ল্যাবরেটরি বা আধুনিক চিকিৎসাপ্রণালীই যথেষ্ট নয়; এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হল ‘প্রপার কাউন্সেলিং’।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৫
Share:

মাতৃত্বের যাত্রায় ‘প্রপার কাউন্সেলিং’-এর প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান যুগে পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এবং অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটির সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বহু দম্পতির কাছে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আইভিএফ বা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। কিন্তু আইভিএফ মানেই কি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত সাফল্য? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও চাবিকাঠি?

বিখ্যাত ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডঃ অরিন্দম রথ জানাচ্ছেন, আইভিএফ প্রক্রিয়ায় কেবল উন্নত ল্যাবরেটরি বা আধুনিক চিকিৎসাপ্রণালীই যথেষ্ট নয়; এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হল ‘প্রপার কাউন্সেলিং’ (Proper Counseling)।

পূর্ব ভারতে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় ডঃ অরিন্দম রথ এক অত্যন্ত পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য নাম। দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা এবং অসংখ্য দম্পতির মুখে হাসি ফোটানোর নেপথ্যে তাঁর যে দর্শন কাজ করে, তা হল— চিকিৎসা শুধু ওষুধের মাধ্যমে নয়, মনের শুশ্রূষার মাধ্যমেও হওয়া প্রয়োজন। ডঃ রথের মতে, বন্ধ্যাত্ব কেবল শারীরিক ব্যাধি নয়, এটি একটি গভীর মানসিক সঙ্কটও বটে।

মূল সমস্যা: কোথায় হোঁচট খাচ্ছেন দম্পতিরা?

ডঃ রথ তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখেছেন যে, অনেক দম্পতিই আইভিএফ-কে একটি ম্যাজিক বলে মনে করেন। তাঁদের ধারণা, একবার এই চিকিৎসা শুরু করলেই সন্তান আসবেই। এই উচ্চাশা বা ‘আনরিয়েলিস্টিক এক্সপেক্টেশন’ যখন ধাক্কা খায়, তখন তাঁরা ভেঙে পড়েন। ভিডিওতে ডঃ রথ মূলত তিনটি প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন:

১. মানসিক অবসাদ: বারবার চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ার ভয়।

২. পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হওয়া।

৩. ভ্রান্ত ধারণা: চিকিৎসা পদ্ধতি এবং তার সাফল্য নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা।

কেন কাউন্সেলিং অপরিহার্য?

ল্যাবে ভ্রূণ তৈরির আগে দম্পতির মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। ডঃ অরিন্দম রথ কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে কয়েকটি বিশেষ দিক উল্লেখ করেছেন:

১. মানসিক প্রস্তুতির প্রথম ধাপ: আইভিএফ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এখানে ধৈর্যই আসল। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে দম্পতিকে জানানো হয় যে প্রথমবারেই সাফল্য না এলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই মানসিক দৃঢ়তা চিকিৎসার ফলকে ইতিবাচক করতে সাহায্য করে।

২. স্ট্রেস হরমোন ও ফার্টিলিটি: আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা প্রজনন ক্ষমতায় বাধা দেয়। ডঃ রথের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিক কাউন্সেলিং দম্পতির মনের ভার লাঘব করে এবং তাঁদের ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ায়।

৩. স্বামী-স্ত্রীর মেলবন্ধন: ইনফার্টিলিটির লড়াইয়ে অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। ডঃ রথ জোর দিয়ে বলেন, কাউন্সেলিং সেশনে দু’জনকে এক সঙ্গে বসিয়ে কথা বলা হয় যাতে তাঁরা একে অপরের সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে উঠতে পারেন।

৪. সঠিক তথ্যের আদান-প্রদান: ইন্টারনেটের যুগে অনেক ভুল তথ্য রোগীদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞের কাছে সরাসরি কাউন্সেলিং করলে সমস্ত ভয় ও সংশয় দূর হয়। চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞের শেষ কথা

ডঃ অরিন্দম রথের কথায়, “আইভিএফ মানে কেবল ইনজেকশন বা হরমোন থেরাপি নয়, এটি একটি সামগ্রিক যাত্রা।” মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে শরীর এবং মন— উভয়কেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। আর সেই প্রস্তুতির নামই হল কাউন্সেলিং।

তাই আপনি যদি সন্তানহীনতার সমস্যার মোকাবিলা করছেন, তবে শুধু টেকনোলজির ওপর ভরসা না করে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে খোলামনে আলোচনা করুন। কারণ, সুস্থ মনই পারে একটি সুস্থ প্রাণের জন্ম দিতে।

আপনার কি এই বিষয়ে আরও কোনও জিজ্ঞাসা আছে? ডঃ অরিন্দম রথের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করতে পারেন বিশেষজ্ঞের ক্লিনিকে। অথবা হোয়াটস্অ্যাপ করুন এখানে— wa.me/9330321623

এই প্রতিবেদনটি ‘ডঃ অরিন্দম রথ’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন