Startup Carnival 5

‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’: বাংলার উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত করার এক অভিনব উদ্যোগ

উদ্দেশ্য, সংস্কৃতি, দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাংলার উদ্যোক্তারা কতটা সফল হতে পারে তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে ‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’, আয়োজনে ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩২
Share:

‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’

উদ্দেশ্য, সংস্কৃতি, দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বাংলার উদ্যোক্তারা কতটা সফল হতে পারে তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে ‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’, আয়োজনে ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’। ‘জিসিআইআই’ এবং ‘ফুডকা’-র সহায়তায় এবং ‘বেঙ্গল বিজ়নেস কাউন্সিল’, ‘পয়েন্টার্স বিজ়নেস ফোরাম’, ‘ওয়েলথঅ্যাপ’, বি-স্কুল অংশীদার হিসাবে ‘এএসএমআই’ বিজ়নেস স্কুল’ এবং কমিউনিটি অংশীদার হিসাবে ডি২সি ইনসাইডার সহ ইকোসিস্টেম অংশীদারদের দ্বারা এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। এই কার্নিভালে এক ছাদের তলায় একত্রিত হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী, পলিসিমেকার, শিক্ষাবিদ ও শিল্পজগতের নানা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’-এর সহ-সভাপতি এবং সহ-চ্যান্সেলর, মানসী রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা করেন। তিনি স্টার্টআপ কার্নিভালকে কোনও বিচ্ছিন্ন অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরেন, যা উদ্যোক্তাদের তাদের নিজেদের মূল্যায়নের গন্ডির বাইরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, “এটি কলকাতাকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলার একটি আন্দোলন, স্মৃতিচারণ হিসেবে নয় বরং উদ্যোগ এবং কল্পনার একটি জীবন্ত, প্রাণবন্ত শক্তিকেন্দ্র।”

সঞ্জয় কুমার দাস

এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব, ডাব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) সঞ্জয় কুমার দাস-এর বক্তব্যে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নীতির ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের বাস্তব সহায়তার দিকগুলি তুলে ধরেন, ডেটা সেন্টার ও এআই পরিকাঠামোর সুবিধা থেকে শুরু করে নতুন উদ্যোগগুলির খরচ কমানোর বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বলেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট চালু হওয়ার পর উদ্যোক্তাদের বুঝতে হবে, তথ্য ব্যবস্থাপনায় অসাবধানতা তাঁদের পথচলাই থামিয়ে দিতে পারে। সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বের ভারসাম্য রাখলেই নীতি প্রকৃত অর্থে একজন সহযোগী হয়ে উঠতে পারে।”

প্রথম প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে, “৭০,০০০ কোটি টাকার সুযোগ: দুর্গাপুজো ও বাংলা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম” শীর্ষক বিষয়টি। ‘পয়েন্টার্স বিজ়নেস ফোরাম’-এর ডিরেক্টর-কনভেনর ও জিএসওই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অর্ণব বসুর সঞ্চালনায় এই প্যানেল আলোচিত হয়। এই আলোচনায় দূর্গাপুজোকে একটি অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা যেমন, অরিজিৎ মৈত্র, সম্রাট সেনগুপ্ত, প্রমিতা সাহা খান, আশুতোষ ভট্টাচার্য, ইনসিয়াহ চাওলা এবং গৌরব সিংহ আলোচনা করেন কী ভাবে স্টার্টআপগুলি বাণিজ্যের পাশাপাশি কমিউনিটি নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার ভারসাম্য বজায় রেখে দূর্গাপুজোর সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় প্যানেলে মূল আলোচনার বিষয় ছিল খাদ্য উদ্যোগ। ‘ফুডকা কনসাল্টিং ও ফুডকা একাডেমির’ ইন্দ্রজিৎ লাহিরির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত “বিল্ট টু টেস্ট” প্যানেলে রেস্তোরাঁ চালানোর বাস্তব দিকগুলি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এখানে খরচ ও লাভের হিসাব, সাপ্লাই চেন, গ্রাহকের বিশ্বাস তৈরি, কাজের ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি ব্র্যান্ড গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জগুলি সহজভাবে তুলে ধরা হয়।

সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রজিৎ লাহিরি

ইন্দ্রজিৎ লাহিরি এবং শেফ সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায় (স্মোক এন্ড লাইম)-“স্টার্টিং ইওর ওন সাপার ক্লাব” শীর্ষক ফায়ারসাইড চ্যাটে সততা ও নিজস্বতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় স্টার্টআপ পিচ ম্যারাথন, যেখানে ১৮টি স্টার্টআপ, বিনিয়োগকারী ও ইকোসিস্টেমের নেতৃত্বদের সামনে নিজেদের আইডিয়া তুলে ধরে। কঠোর মূল্যায়নের পর বিজয়ী হয় Quekey.io, দ্বিতীয় স্থানে থাকে LovethyNature এবং তৃতীয় হয় GreenMentor।

চিন্তাশীল এবং দৃঢ় উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে কলকাতার স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ, এই আশার মধ্য দিয়েই শেষ হয় ‘স্টার্টআপ কার্নিভাল ৫’।

এই প্রতিবেদনটি ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন