Abhishek Banerjee on Draupadi Murmu

টিম বিজেপির সঙ্গে ‘সম্মাননীয় রাষ্ট্রপতিজি’কেও জুড়ে দিলেন অভিষেক! নীলবাড়ির লড়াইয়ে নয়া সংঘাতে ঘাসফুল এবং পদ্ম

শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানেই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তা নিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে নতুন সংঘাতে জড়াল তৃণমূল এবং বিজেপি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ২২:১২
Share:

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

এ বার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও বিজেপির সঙ্গে জুড়ে দিল তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ আগে থেকেই তুলে আসছে রাজ্যের শাসক দল। এ বার তাতে জুড়ল রাষ্ট্রপতিকেও। বিজেপির সঙ্গে ‘সম্মাননীয় রাষ্ট্রপতিজি’র আঁতাত-তত্ত্ব উস্কে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে পশ্চিমবঙ্গবাসী বনাম বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাতের কথা তুলে ধরেন। সেই পোস্টেই বিজেপির টিমে নির্বাচন কমিশন, ইডি, আয়কর দফতর, সিবিআই, এনআইএ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্যপাল, ২০ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাতে জুড়ে দেন ‘সম্মাননীয় রাষ্ট্রপতিজি’কেও। তিনি লেখেন, “গোটা ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গের বিরুদ্ধে একজোট হলেও পশ্চিমবঙ্গ আরও দৃঢ় হয়ে দাঁড়াবে।”

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। এসআইআর-প্রসঙ্গে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে ধারাবাহিক আক্রমণ করে যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। তাঁর এই সফর ঘিরে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে যুযুধান দুই পক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত রাষ্ট্রপতি মুর্মুর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানে ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “জানি না, মমতাদির আমার উপর কেন রাগ...।” পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপতি। উত্তরবঙ্গের যে স্থানে এই কর্মসূচিটি হওয়ার ছিল, সেখানে এটি আয়োজিত হয়নি। অভিযোগ, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই— এই যুক্তি দেখিয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে ফাঁসিদেওয়ায় গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’’

এর পর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।”

রাষ্ট্রপতি মুর্মু যখন উত্তরবঙ্গ থেকে এই মন্তব্যগুলি করছেন, মমতা তখন কলকাতায় ধর্মতলায় অবস্থান মঞ্চে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র হত্যার’ প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছেন তিনি। ওই ধর্নামঞ্চ থেকেই মুর্মুর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান মমতা। মমতার কথায়, ‘‘আমার বলতে লজ্জা করছে। মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’ তিনি এ-ও অভিযোগ করেন, রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিকল্পনা নিয়ে আগেই গান গেয়ে রাখা হচ্ছে’। রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেও বিজেপিকে নিশানা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরেই প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’’ মোদীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী। এ বার মোদীর সেই সমাজমাধ্যম পোস্টের জবাব দিলেন অভিষেক। বিজেপির সঙ্গে কমিশন, ইডি, সিবিআই-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে আঁতাঁতের অভিযোগ এত দিন তুলত তৃণমূল, এ বার তার সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকেও জুড়ে দিলেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement