Breast Cancer Awareness

স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ ‘পিঙ্ক ট্যাগ প্রোজেক্ট’

গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপট থেকেই জন্ম নিয়েছিল ফেডারেল ব্যাঙ্ক হরমিশ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, নিউজ-১৮ নেটওয়ার্ক এবং টাটা ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগ ‘সঞ্জীবনী: পিঙ্ক ট্যাগ প্রোজেক্ট’।

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৭
Share:

‘পিঙ্ক ট্যাগ প্রোজেক্ট’

“দিল্লির বাইরে একটি ছোট্ট গ্রাম। সেখানেই এক মহিলা ঠিক তাঁর ব্লাউজের ভিতরে ওয়াশ-কেয়ার লেবেলের পাশেই একটি ‘পিঙ্ক ট্যাগ’ সেলাই করা দেখতে পেলেন। ট্যাগটিতে খুব সাধারণ ছবির মাধ্যমে তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে নিজের স্তন পরীক্ষার কথা। কোনও ভয় বা আতঙ্ক নয়, শুধুই সচেতনতা।” গ্রামবাংলার এই প্রেক্ষাপট থেকেই জন্ম নিয়েছিল ফেডারেল ব্যাঙ্ক হরমিশ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, নিউজ-১৮ নেটওয়ার্ক এবং টাটা ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগ ‘সঞ্জীবনী: পিঙ্ক ট্যাগ প্রোজেক্ট’। এ বার সেই গ্রামীণ উদ্যোগই মূলধারার ফ্যাশন জগতে পা রাখল। এই উদ্যোগে সামিল হল ভারতের জনপ্রিয় শাড়ি ও ব্লাউজের ব্র্যান্ড ‘সুতা’। ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মেলবন্ধনে শেখাল, বর্তমানে পোশাক কেবল সাজগোজের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠছে জীবনরক্ষার হাতিয়ার।

ভারতে প্রতি চার মিনিটে এক জন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং উদ্বেগের বিষয় হল, ৭০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে রোগটি ধরা পড়ে অনেক দেরি করে। মহিলারা স্ক্রিনিং করান না, কারণ তাঁদের হাতে সময় নেই। বলা বাহুল্য, নিজের জন্য সময় বের করা তাঁদের কাছে বিলাসিতা। সংসারের কাজ, জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবারের দেখাশোনার চাপে তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যান। অথচ সেই ব্যস্ততার মধ্যে থেকেই নিজের জন্য সময় বের করতে পারলেই বাঁচতে পারে অনেকগুলো জীবন।

‘পিঙ্ক ট্যাগ প্রোজেক্ট’ শুরু হয়েছিল একটি সহজ পর্যবেক্ষণ থেকে। সারাদিনে মহিলারা অন্তত একবার একান্তে নিজের সঙ্গে সময় কাটান— যখন তাঁরা পোশাক পরেন। পোশাকের ভিতরে সেলাই করা এই পিঙ্ক ট্যাগটি সেই মুহূর্তটিতেই তাঁদের স্তন পরীক্ষার ধাপগুলো মনে করিয়ে দেয়। বছর কয়েক আগে গ্রামের দর্জি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে যে আচরণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তা আজ একটি বড় আকার নিল।

ফিল্মটি দেখতে ক্লিক করুন:

‘সুতা’ ভারতীয় ফ্যাশন জগতে এসেছিল একটি লক্ষ্য নিয়ে। লক্ষ্য ছিল, আধুনিক নারীর কাছে শাড়িকে নতুনভাবে তুলে ধরা। যেখানে ঐতিহ্যকে কেবল নস্টালজিয়া হিসেবে দেখা হতো, সেখানে ‘সুতা’ এনেছিল নতুন শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসই আরও একটা ধাপ পার হল। এখন থেকে ‘সুতা’র ব্লাউজগুলোতে ওয়াশ-কেয়ার ট্যাগের পাশেই যুক্ত থাকবে এই পিঙ্ক ট্যাগ। ফলে এই ব্লাউজ়গুলি আর কেবল সাজের অঙ্গ নয়, তা হয়ে উঠবে ‘কেরিয়ার অফ কেয়ার’ অর্থাৎ ‘যত্নের বাহক’। এটি প্রতিটি নারীকে মনে করিয়ে দেবে যে, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাও সমান জরুরি।

‘সুতা’র ব্লাউজে পিঙ্ক ট্যাগ যুক্ত করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি দেখিয়ে দিল, কী ভাবে ফ্যাশন সংস্থাগুলো তাদের পণ্যের নকশা এবং কর্পোরেট দর্শনের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতাকে মিশিয়ে দিতে পারে। এটি একটি বাস্তব উদাহরণ যা পোশাক শিল্পের বাকিদের জন্যও অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। গ্রামীণ দর্জিদের হাত ধরে যে পরিবর্তনের শুরু হয়েছিল, তা এখন ‘সুতা’র মতো বড় ব্র্যান্ডের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এই উদ্যোগে জনসমাজের অন্তর্দৃষ্টি, শিল্পের অংশগ্রহণ এবং বাজারের উদ্ভাবন এক হয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতায় এক বড়সড় বদল আনতে চলেছে।

এই প্রসঙ্গে ‘সুতা’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুজাতা বিশ্বাস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, মহিলারা যে পোশাক পরেন তা কেবল একটি কেনাকাটা নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি তাঁদের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং এখন—যত্নের প্রতীক। আমরা যখন পিঙ্ক ট্যাগ সম্পর্কে জানলাম, বুঝলাম এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। একটি ব্লাউজ় যদি একজন নারীকে তাঁর স্বাস্থ্যের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে, তবে ফ্যাশন দেশ গড়ার কাজেও অংশ নিতে পারে।”

‘সুতা’র আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া বিশ্বাস যোগ করেন, “পোশাক পরার মুহূর্তটি খুবই একান্ত। তখন একজন নারী সম্পূর্ণ একা নিজের সঙ্গে থাকেন। পিঙ্ক ট্যাগটি সেখানে রাখা তাই অপরিহার্য ছিল। আমরা কোনও নির্দেশ দিচ্ছি না, শুধু তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে উপস্থিত থেকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, সংশ্লিষ্ট মহিলার স্বাস্থ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

নিউজ়-১৮ স্টুডিয়োর সিওও সিদ্ধার্থ সাইনি বলেন, “নিউজ়-১৮-এর টিভি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সঞ্জীবনী এমনভাবে বিস্তৃত হয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য-তথ্য সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। দেশের প্রভাবশালী মানুষ থেকে শুরু করে সেই সব এলাকার মানুষের কাছেও এই তথ্য পৌঁছেছে, যেখানে সচেতনতার অভাবে সময়মতো পদক্ষেপ করা এবং সুস্থ থাকা এখনও কঠিন হয়ে পড়ে। ‘পিঙ্ক ট্যাগ’ প্রমাণ করেছে যে মিডিয়া শুধু বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, এটি মানুষের অভ্যাসও বদলাতে পারে। এটি মনে করিয়ে দেওয়ার একটি সহজ উপায়, যা বারবার চোখে পড়ে। টিভি বা সংবাদ না দেখলেও, এই বার্তা নারীদের কাছে পৌঁছে যায়। এভাবেই সচেতনতার বার্তা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যায়। ‘সুতা’র সঙ্গে এই পার্টনারশিপ আমাদের উদ্যোগকে রিটেল এবং সামাজিক স্তরে আরও শক্তিশালী করেছে। আজ এই উদ্যোগটি জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমাদের বিশ্বাস, এমন অন্তর্দৃষ্টি-নির্ভর উদ্ভাবনই বাস্তব জীবনে কার্যকর ফল আনে এবং দীর্ঘস্থায়ী, কাঠামোগত পরিবর্তন গড়ে তুলতে পারে।”

ফেডারেল ব্যাঙ্কের চিফ মার্কেটিং অফিসার এম. ভি. এস. মূর্তী বলেন, “পিঙ্ক ট্যাগ কোনও একটি ক্যাম্পেইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার জন্য তৈরি হয়নি। ‘সুতা’র এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আসল বাধা সম্পদ বা উদ্ভাবন নয়, আসল বাধা হল বিশ্বাস। বাণিজ্যের সাফল্যের সঙ্গে সামাজিক উদ্দেশ্যকে মেলানোর সদিচ্ছা। আমরা কেবল একটি কোলাবোরেশন করছি না, আমরা ভারতের ফ্যাশন শিল্পের জন্য একটি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছি যা জনস্বাস্থ্যের অংশীদার হতে পারে।”

এরপর কী হবে?

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ‘সুতা’র পোশাকে এখন পিঙ্ক ট্যাগ সেলাই করা থাকছে। এই পার্টনারশিপ আসলে পোশাক শিল্পের বাকিদের জন্যও একটি আমন্ত্রণ। ডি-টু-সি ইকোসিস্টেম, প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং নীতি-নির্ধারকরা লক্ষ্য করছেন কী ভাবে এই ছোট উদ্যোগ বড় প্রভাব ফেলছে। লক্ষ লক্ষ আলমারিতে পৌঁছে যাওয়া এই ট্যাগটি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী আচরণগত পরিবর্তন আনবে। ‘সুতা’ দেখিয়ে দিল, কী ভাবে ব্র্যান্ডগুলো বড় পরিসরে সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি ‘নেটওয়ার্ক ১৮ মিডিয়া এবং ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন