Cash Transaction

ডিজিটাল লেনদেনে মন নেই, নগদে লেনদেনে দেশে প্রথম সারিতে পশ্চিমবঙ্গ

এসবিআই রিসার্চের ওই সমীক্ষায় দাবি, দেশে সবচেয়ে বেশি নগদ লেনদেন হয় কর্নাটকে। তার পরেই পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তীসগঢ়। কর্নাটকে একটি এটিএম থেকে গত এপ্রিল-ডিসেম্বরে প্রতি মাসে গড়ে ১.৭০ কোটি টাকা তুলেছেন মানুষ।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৭
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

বছর দশেক আগে নোটবন্দির সময় থেকেই নগদের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে বলছে মোদী সরকার। তবে এখনও যে বেশ কিছু রাজ্যে নগদের ব্যবহার যথেষ্ট বেশি, তা তুলে ধরল সমীক্ষা। সেখানে দেখা গিয়েছে, ওই রাজ্যগুলির তালিকায় প্রথম সারিতে পশ্চিমবঙ্গ।

এসবিআই রিসার্চের ওই সমীক্ষায় দাবি, দেশে সবচেয়ে বেশি নগদ লেনদেন হয় কর্নাটকে। তার পরেই পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তীসগঢ়। কর্নাটকে একটি এটিএম থেকে গত এপ্রিল-ডিসেম্বরে প্রতি মাসে গড়ে ১.৭০ কোটি টাকা তুলেছেন মানুষ। এ রাজ্যে ওই অঙ্ক ১.৬২ কোটি, তামিলনাড়ুতে ১.৫৯ কোটি টাকা। অথচ ওই সময়ে এই হিসাবের ক্ষেত্রে জাতীয় গড় মাত্র ৯৫ লক্ষ টাকা। আগের তিনটি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের একটি এটিএম থেকে মাসে টাকা তোলার গড় অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ১.৫১ কোটি, ১.৬২ কোটি এবং ১.৬৫ কোটি টাকা। জাতীয় গড় ছিল যথাক্রমে ১.০৮ কোটি, ১.০৫ কোটি এবং ১ কোটি টাকা। ছত্তীসগঢ় ও দিল্লিতেও এটিএম থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলতে দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এতে প্রমাণ হল ডিজিটাল লেনদেনের রাস্তায় ভারত বেশ কিছুটা এগোলেও নগদ লেনদেনকে ছাড়তে পারেনি। কিছু অংশে এই ঝোঁক অত্যন্ত বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশ, পঞ্জাব, তামিলনাড়ুর মতো রাজ‍্যগুলিও এ ক্ষেত্রে উপরের দিকে। অনেক জায়গায় তা ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে। তবে এসবিআইয়ের সমীক্ষা এটাও জানাচ্ছে, নগদের ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী হলেও দেশের অধিকাংশ লেনদেনই এখন ডিজিটাল মাধ‍্যমে হয়ে থাকে। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বারের অর্থনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম‍্যান স্মরজিৎ মিত্র বলেন, “নগদ লেনদেনে যে রাজ‍্যগুলি উপরের দিকে, তাদের শহর এবং গ্রামের অর্থনীতির ফারাক খুব বেশি। ফলে শহরেডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে। কিন্তু গ্রামে নগদই বহাল।”

পরিসংখ্যানে আরও প্রকাশ, ভারতে অনলাইনে দেওয়া-নেওয়া হয় মূলত অল্প টাকা। নিয়ন্ত্রক এনপিসিআই-এর তথ‍্যে দাবি, বাণিজ‍্যিক লেনদেনের ৮৬% ৫০০ টাকার কম অঙ্কের। দু’জন ব্যক্তির মধ্যে তা ৬০%। এসবিআই-র সমীক্ষা বলছে, ঠিক সেই কারণেই গত দু’বছরে ৫০০ ছাড়া বাকি নোটগুলির পরিমাণ কমেছে বাজারে। গত এপ্রিল-জানুয়ারিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত সব রকম নোট কমেছে ০.২%। ১০০ টাকার নোট কমেছে প্রায় ১% এবং ২০০-র নোট ৩.৩%। ৫০০-র নোট বেড়েছে ৪.৪%।

স্মরজিতের আশঙ্কা, ‘‘নগদে ছোট অঙ্কের লেনদেনের সঙ্গে জালিয়াতির একটা যোগ থাকে। বিভিন্ন জালিয়াতির টাকা এ ভাবে ছোট অঙ্কে ভেঙে ঘুরিয়ে হাতবদল করা হয়। এটাও কিন্তু মাথায় রাখতে হবে।’’ সংশ্লিষ্ট মহলের কারও কারও মতে, কেন্দ্র দীর্ঘ দিন ধরেই নগদ লেনদেন কমানোয় জোর দিচ্ছে। তাই সব রকম নোটের সংখ‍্যা কমাচ্ছে। এসবিআই রিসার্চ বলেছে, দেশে ৫০০ টাকা ছাড়া অন‍্য সব নোটের সংখ‍্যা কমে আসা বাজার থেকে খুচরো উধাও হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

সমীক্ষায় দাবি

দেশে নগদ লেনদেনে শীর্ষে এখন কর্নাটক। তার পরেই পশ্চিমবঙ্গ।

চলতি অর্থবর্ষে (ডিসেম্বর পর্যন্ত) এটিএম থেকে গড়ে মাসে ১.৬২ কোটি টাকা তুলেছেন রাজ্যের মানুষ।

এ ক্ষেত্রে জাতীয় গড় মাত্র ৯৫ লক্ষ টাকা।

ডিজিটাল নির্ভরতা আগের থেকে বাড়লেও মূলত টাকার পরিমাণ অল্প হলে লেনদেন হচ্ছে এ ভাবে।

যে কারণে ৫০০ ছাড়া বাকি নোটগুলির পরিমাণ কমেছে বাজারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন