নগদ না-ছুঁয়েও কেনাকাটা। পকেটে হাত না-ঢুকিয়েও লেনদেন। এই সুবিধা গ্রাহকদের হাতের মুঠোয় এনে দিতে মোবাইলে রকমারি অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) পুরে দেওয়ার বন্দোবস্ত করছে ব্যাঙ্কগুলি। শুধু নেট-ব্যাঙ্কিংয়ের মোবাইল সংস্করণে আটকে না-থেকে এখন বিভিন্ন ধরনের অ্যাপের সম্ভার গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরছে তারা। যাতে উৎসবের কেনাকাটা থেকে রেস্তোরাঁর বিল মেটানো, আত্মীয়-বন্ধুকে টাকা পাঠানো থেকে বিমানের টিকিট কাটা— প্রায় সবই সেরে ফেলা যায় হাতে ধরা মোবাইলের মাধ্যমে।
এই দৌড়ে সামিল হয়ে ইতিমধ্যেই ৩টি অ্যাপ পরিষেবা চালু করেছে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক। মোবাইল ব্যাঙ্কিং, পেজ্যাপ এবং চিলআর। এর মধ্যে প্রথম দু’টি ব্যাঙ্কের নিজস্ব। তৃতীয়টি চিলআর নামে তৃতীয় পক্ষ (থার্ড পার্টি) অ্যাপ। এ জন্য তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে দেশের প্রথম সারির ব্যাঙ্কটি। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিজেদের সুবিধা ও লেনদেনের নিরাপত্তা বিচার করে গ্রাহক যাতে পছন্দসই অ্যাপটি বেছে নিতে পারেন, সেই কারণেই বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের সামনে।
এটিএম চালুর পরে যেমন ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তোলা প্রায় ভুলতে বসেছি আমরা, তেমনই বাদবাকি পরিষেবা গ্রাহকের হাতের স্মার্টফোনে হাজির করে দিচ্ছে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং। আধ মিনিটেরও কমে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণ (পার্সোনাল লোন) পাওয়া থেকে শুরু করে মোবাইলের বোতাম টিপে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাঠানো— সবই সম্ভব হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে। আর, জীবনের বহু ক্ষেত্রের মতো এখানেও গুরুত্ব বাড়ছে মোবাইলের। যে-কারণে গ্রাহকদের সামনে রকমারি অ্যাপের পসরা সাজানোয় এত জোর দিচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এগ্জিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল ভার্বে বলেন, ‘‘এখন আমাদের ব্যাঙ্কে সমস্ত গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত খুঁটিনাটি কম্পিউটারে মজুত। ফলে ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে সব তথ্য নতুন করে চাইতে হয় না। চটজলদি সিদ্ধান্ত হয়ে যায় বৈদ্যুতিন ব্যবস্থাতেই।’’
নেট ব্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ জরুরি। তা ছাড়া, সব সময় ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ যে গ্রাহক এক সঙ্গে করতে চান, এমনটাও নয়। হয়তো পুজোর জন্য জামাকাপড় কেনাকাটার কথা ভাবছেন তিনি। ফলে তিনি চাইবেন এমন ব্যবস্থা, যেখানে তা করা সহজ ও সুবিধাজনক। হয়তো টাকা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একই ধরনের জামাকাপড়ের দরের তুলনাও ওই একই অ্যাপে পেতে চাইবেন তিনি। যাতে পণ্য পছন্দ, তার দর যাচাই থেকে শুরু করে কেনাকাটার দাম মেটানো— পুরোটাই এক জায়গায় করতে পারেন। ভার্বের দাবি, তাঁদের পেজ্যাপে ওই ধরনের সুবিধা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অবশ্য ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডকে তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
ব্যাঙ্কের দাবি, গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ছে চিলআর পরিষেবারও। এর মাধ্যমে নিজের মোবাইলে নথিভুক্ত নম্বরে সহজে এবং দ্রুত টাকা পাঠাতে পারেন গ্রাহক। ধরা যাক, তিন বন্ধু রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে মোট বিল হল ৩ হাজার টাকা। এক জনই তা মেটালেন। সে ক্ষেত্রে নিজেদের ভাগের এক হাজার টাকা করে তখনই ওই বন্ধুকে দিয়ে দিতে পারবেন বাকি দু’জনে। পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য সময় লাগবে মেরেকেটে কয়েক সেকেন্ড।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের দাবি, চিলআরের মাধ্যমে এক জনের থেকে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। মুম্বইয়ে তা কোনও সংস্থার অ্যাকাউন্টেও পাঠাতে পারছেন গ্রাহক। শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশে তা চালু হবে।
ব্যাঙ্কের দাবি, দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’ও। টাকা মেটানো বা পাঠানোর জন্য ওই ওয়ালেটে টাকা সরিয়ে রাখছেন তাঁরা। পেমেন্টও করছেন তার মাধ্যমে। জানাতে হচ্ছে না ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য। এ সব রকমারি সুবিধার কারণেই গ্রাহকের কাছে অ্যাপের কদর বাড়ছে বলে ব্যাঙ্কের দাবি।