—প্রতীকী ছবি।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে ৪০ কোটি টাকা জমা করে দিয়েছিল শেয়ার বাজারের ব্রোকারেজ সংস্থা। তা দিয়ে শেয়ার বাজারের ফিউচার অ্যান্ড অপশনে লগ্নি করেন ওই ব্যবসায়ী। তা থেকে ১.৭৫ কোটি টাকা লাভ করার পর সেই টাকা দাবি করে বসল ব্রোকার ফার্ম। ২০২২ সালে এই আর্থিক মামলাটি গড়ায় আদালতে। ডিসেম্বরে বম্বে হাই কোর্ট সেই মামলার রায় দিয়ে জানিয়েছে ৪০ কোটি টাকা মার্জিন মানি দিয়ে অর্জিত ১.৭৫ কোটি টাকার মুনাফা নিজের কাছেই রাখতে পারবেন ব্যবসায়ী।
সংবাদসংস্থাগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত ভুলের জন্য ব্যবসায়ী গজানন রাজগুরু ৪০ কোটি টাকার মার্জিন মানি (ব্রোকারের থেকে ধার করা ন্যূনতম ট্রেড ব্যালেন্স) পেয়েছিলেন। সেই টাকা ফিউচার অ্যান্ড অপশনে ট্রেডে বিনিয়োগ করেন তিনি। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সেখান থেকে ১.৭৫ কোটি টাকা বাম্পার রিটার্ন পান গজানন। এর পর ব্রোকারেজ ফার্মটি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে মার্জিন মানি ফিরিয়ে নেয় এবং ব্যবসায়ীর সেই মুনাফারও ভাগ চেয়ে বসে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেই জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ব্রোকারেজ সংস্থা ব্যবসায়ীর সঙ্গে মামলাটি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছিল। তাঁর অর্জিত লাভ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। অর্থাৎ, সংস্থাটি ১.২৫ কোটি টাকা লাভের দাবি করে। গজানন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
সওয়াল-জবাব চলাকালীন ব্রোকারেজ ফার্মের আইনজীবী এজলাসে বলেন, তারা ভুল করে প্রায় ৪০ কোটি টাকার মার্জিন জমা দিয়েছে। তাই এই অর্থ থেকে প্রাপ্ত যে কোনও লাভ তাদেরই হওয়া উচিত। বম্বে হাই কোর্ট জানিয়েছে যে ব্রোকারেজ সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রদত্ত ট্রেড মার্জিন মানি ব্যবহার করে কোনও স্টক ট্রেডার যদি লাভ করেন তা অন্যায্য নয়। ব্যবসায়ী প্রথমে ৫৪ লক্ষ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন। পরে ২.৩৮ কোটি টাকার মুনাফা করেন। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ী ১.৭৫ কোটি টাকার নিট লাভ করেন। বম্বে হাই কোর্ট উল্লেখ করেছে যে ভুল করে মার্জিনের টাকা ব্যবসায়ীর হাতে চলে যাওয়ায় কারণে সংস্থার কোনও ক্ষতি হয়নি। ব্যবসায়ীর অর্জিত লাভকে একটি নির্দিষ্ট যুক্তিতে ফেলে অন্যায় ভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে সংস্থাই। বম্বে হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিল সংশ্লিষ্ট ব্রোকার সংস্থা। পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি। আদালত জানিয়েছে যে তত দিন অন্তর্বর্তিকালীন রায় বহাল থাকবে।