BJP Protest

বিজেপির দলীয় অফিস দখল উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগরে দিনভর উত্তেজনা! হাল ছাড়ল পুলিশ, বল গড়াল ফের আদালতে

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রজনী মুখার্জি লেনের এই বাড়িটি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে জেলা কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি। বাড়ির মালিক গৌতম সরকার দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে ২০১৯ সালে উচ্ছেদের অনুমতি পেয়েছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:২০
Share:

—নিজস্ব চিত্র।

আদালতের নির্দেশ আগেই ছিল। সেই মতো বুধবার দুপুরে কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণকেন্দ্র রজনী মুখার্জি লেনের বিজেপি জেলা কার্যালয় ‘শ্যামাপ্রসাদ-দীনদয়াল ভবন’-এ দখল উচ্ছেদ করতে পৌঁছেছিল পুলিশ এবং আদালত নিযুক্ত নাজির। কিন্তু দিনভর টানটান উত্তেজনা, দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং বিজেপি কর্মীদের অনড় অবস্থানের জেরে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হল প্রশাসনকে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ কার্যত হাল ছেড়ে দিয়ে ফিরে যায় পুলিশ ও মালিকপক্ষ। ফলে দীর্ঘ ৪১ বছরের পুরনো এই কার্যালয় থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি আপাতত ফের আদালতের বিচারাধীন হতে চলেছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রজনী মুখার্জি লেনের এই বাড়িটি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে জেলা কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করছে বিজেপি। বাড়ির মালিক গৌতম সরকার দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে ২০১৯ সালে উচ্ছেদের অনুমতি পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী সুজাতা সরকার ২০২২ সালে পুনরায় মামলা করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই গত বছর ৩০ এপ্রিল আদালত উচ্ছেদের চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। বুধবার দুপুরে সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই হাজির হন আদালত নিযুক্ত নাজির। সঙ্গে ছিল কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ এবং কুইক রেসপন্স টিম।

কিন্তু উচ্ছেদের চেষ্টা শুরু হতেই বাধা দেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের নেতৃত্বে কার্যালয়ের সামনেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় চরম ধস্তাধস্তি। অর্জুনকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারাও নেয়। বিজেপির সাফ কথা, “সামনে নির্বাচন। এই মুহূর্তে বিকল্প কার্যালয় না পেয়ে অফিস ছাড়া সম্ভব নয়।” বিজেপি কর্মীদের স্লোগান এবং পুলিশের তৎপরতায় গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত হন ডিএসপি এবং অতিরিক্ত এসপি পদমর্যাদার আধিকারিকেরা।

Advertisement

বিজেপির আইনজীবী সেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বলপূর্বক উচ্ছেদের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও আদালত নিযুক্ত আধিকারিক পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে অবরোধ ও বিক্ষোভ চলার পর পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলার অবনতির দিকে যেতে পারার আশঙ্কায় পিছু হটে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষকে নিরাশ হয়েই ফিরতে হয়। অবরোধ তুলে নিলেও বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, “আমাদের নতুন কার্যালয় হয়ে গেলে আমরা ছেড়ে দেব, কিন্তু আপাতত সময় প্রয়োজন।” কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, “আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশ এসেছিল। গোটা পরিস্থিতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশের জন্য আমরা অপেক্ষা করব।”

অন্য দিকে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে না পারায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মালিকপক্ষ। তৃণমূলের কটাক্ষ, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিজেপি লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করল।” সব মিলিয়ে, উচ্ছেদ ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন এখন নতুন মাত্রা পেল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement