—প্রতীকী চিত্র।
ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ফলে সেখানে ভারতের রফতানি ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ব্যাহত হতে পারে ইউরোপ, আমেরিকায় বাণিজ্যও। এই অবস্থায় পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রক বৈঠকে বসছে রফতানিকারী, জাহাজ সংস্থা, পণ্য পরিবহণকারী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে।
রফতানি সংগঠন ফিয়ো-র দাবি, যুদ্ধের জেরে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী এবং বাব এল-মানদেব প্রণালী দিয়ে পশ্চিম এশিয়া তো বটেই, আমেরিকা এবং ইউরোপেও ভারতের বাণিজ্যের অনেকটা হয়। সেগুলি বন্ধ হওয়ার ফলে ঘুরপথে পণ্য যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাই আমদানি-রফতানিতে বেশি সময় লাগছে। গত বছর থেকে আমেরিকার চড়া শুল্কের কারণে বাণিজ্যে এমনিতেই প্রভাব পড়েছে। এ বার যুদ্ধে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চাল রফতানিকারীরাও। ইরান ভারতীয় বাসমতী চালের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। প্রথম সৌদি আরব। পশ্চিম এশিয়ার বাদবাকি দেশ এবং আমেরিকা রয়েছে প্রথম সারিতে। এই সব দেশই যুদ্ধে জড়ানোয় ওই চালের দাম পাওয়া এবং রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা। রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্তা সুশীল কুমার জৈনের দাবি, ইতিমধ্যেই ইরানের বৃহত্তম বন্দর বান্দার আব্বাস দিয়ে যাওয়া জাহাজ আটকে দেওয়া হয়েছে। অবস্থা না পাল্টানো পর্যন্ত তা আটকেই থাকবে। যার প্রভাব পড়বে বাজার তথা দাম পাওয়ার উপরে।
এই সমস্ত কথা মাথায় রেখে ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে নতুন বরাত এড়িয়ে যেতে সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন। তাদের মতে, নইলে বিমা ও পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, এর আগেও ইরানে অশান্তির কারণে চাল পাঠানোয় প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু এ বার তার ব্যাপকতা অনেক বেশি। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ছ’সাতটি দেশে। কবে তা মিটবে, বোঝা যাচ্ছে না। ফলে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আপাতত কেন্দ্রের বৈঠকে কোনও পথ বেরোয় কি না, সে দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে