Share Market

২০ মাসে ১৩-১৪ হাজার পয়েন্ট পতন! আহত শেয়ারবাজারে খলনায়ক কি শুধুই যুদ্ধ?

এখন সূচক শিখর থেকে ১১ হাজার পয়েন্ট নীচে। প্রশ্ন হল, ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট মজুবত বলা হলেও কেন এমন হচ্ছে? বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক ফলও খুব খারাপ হয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরুর বছর খানেক আগেই সেনসেক্স ৭৩ হাজারের ঘরে নেমেছিল। তারপর উঠলেও, যুদ্ধের ধাক্কায় ৩০ মার্চ ফের নামে ৭১,৯৪৮ অঙ্কে।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৯:০৬
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

সেনসেক্স শিখরে (৮৫,৮৩৬) উঠেছিল ২০২৪-এর ২৬ সেপ্টেম্বর। পরের কুড়ি মাস ধরে সূচকটি ওঠানামা করছে অনেকটা তৈলাক্ত বাঁশে বাঁদরের ওঠানামার অঙ্কের মত। যতবার ওঠার চেষ্টা করছে, ততবারই কম-বেশি ওঠার পরে পিছলে যাচ্ছে। ফলে মনমরা শেয়ার এবং ফান্ডের লগ্নিকারীরা। এখন সূচক শিখর থেকে ১১ হাজার পয়েন্ট নীচে। প্রশ্ন হল, ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট মজুবত বলা হলেও কেন এমন হচ্ছে? বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক ফলও খুব খারাপ হয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরুর বছর খানেক আগেই সেনসেক্স ৭৩ হাজারের ঘরে নেমেছিল। তারপর উঠলেও, যুদ্ধের ধাক্কায় ৩০ মার্চ ফের নামে ৭১,৯৪৮ অঙ্কে। ফলে এটা স্পষ্ট ২০ মাস ধরে ১৩-১৪ হাজার পয়েন্ট পতনের কারণ শুধু যুদ্ধ নয়। ২০২৫-এ বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি ভারত থেকে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা সরিয়েছে। এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে শেয়ার বেচেছে ২.৯৬ লক্ষ কোটি টাকার। ফলে প্রশ্ন জাগছে, এত বেশি পুঁজি সরানোর কারণ কী? লগ্নি যাচ্ছে কোথায়, কেনই বা যাচ্ছে? বিশ্ব বাজারে নজর দিলে যে কারণগুলি উঠে আসছে, তা এই রকম—

  • আমেরিকায় বন্ড ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় বহু লগ্নি সেখানে যাচ্ছে।
  • এক দিকে, ভারতে শেয়ারের দাম ও আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) অনেক দেশের তুলনায় বেশি থাকায় তার লগ্নি টানার ক্ষমতা কমেছে। অন্য দিকে, এ দেশে ভাল দামের সুযোগ নিয়ে লাভ সরছে অন্যত্র।
  • তবে সব থেকে উল্লেখযোগ্য, ইরান যুদ্ধের মধ্যেও এশিয়ার কয়েকটি দেশ এবং আমেরিকার কিছু সংস্থা অভাবনীয় লাভের সন্ধান দিয়েছে। সংস্থাগুলি মূলত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ব্যবহার করে বিপুল আর্থিক সাফল্য পাচ্ছে। ফলে লাগামছাড়া তাদের শেয়ার দর। ভারত থেকে লগ্নি বেরিয়ে যাচ্ছে সেগুলি কিনতে। কোনও সংস্থা কৃত্রিম মেধার (এআই) উন্নত মডেল আনছে, কেউ তৈরি করছে অত্যাধুনিক এআই চিপ এবং সেমিকনডাক্টর চিপ যা গাড়ি এবং কম্পিউটার-সহ বহু বৈদ্যুতিন পণ্যে লাগে। কেউ-কেউ এআই স্মার্ট গ্লাস, রোবট প্রযুক্তি কিংবা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছে। যেগুলির ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত। একাংশের গন্তব্য মহাকাশ গবেষণাকারীর শেয়ারও। আর এর সবক’টিতেই পিছিয়ে ভারত। নেই দৈত্যাকৃতি নথিবদ্ধ প্রযুক্তি সংস্থাও।

মোটা লগ্নি টানছে মূলত আমেরিকা, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু প্রযুক্তি সংস্থা। তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান দু’টি সংস্থা যথাক্রমে টিএসএমসি এবং স্যামসাং। আমেরিকায় লগ্নিকারীদের নজর অ্যাপল, এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, আইবিএম, মেটা, টেসলা, অ্যালফাবেট/গুগ্‌ল ইত্যাদি সংস্থার দিকে। আসলে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বদলের সঙ্গে ভারত তাল মেলাতে পারেনি। বহু বিদেশি লগ্নি তাই এ দেশ ছাড়ছে। কারণ, বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সম্ভাবনা বিপুল। শুধু এনভিডিয়া-রই সব শেয়ারের মোট বাজার দর ভারতে নথিবদ্ধ সমস্ত শেয়ারের মোট শেয়ারমূল্য এবং জিডিপির থেকে বেশি। তার উপর তুলনায় ম্লান ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি। বিদেশে দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারের সুবিধা নিতে অনেকে সরাসরি শেয়ার বা ফান্ডের মাধ্যমে সেখানে লগ্নি করছেন।

তবে এত বিদেশি লগ্নি ভারত ছাড়ায় সূচক আরও পড়ত। পড়েনি ফান্ড-সহ দেশের আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ার কেনায়। অর্থাৎ বাজার তলিয়ে যায়নি মূলত ফান্ডে নিয়মিত লগ্নি করা সাধারণ মানুষের টাকায়। আর এই উচ্চতাকে ব্যবহার করেই বিদেশি লগ্নিকারীরা মোটা মুনাফা কামিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাতে ডলার বাড়ছে, পড়ছে টাকা। এর পর বাজার পড়লে বা উঠতে সময় নিলে, ধাক্কা খাবেন শেয়ার-ফান্ডের লগ্নিকারীরা।

(মতামত ব্যক্তিগত)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন