—প্রতীকী চিত্র।
যুদ্ধ থামাতে ইরান রফায় আসতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিতে মঙ্গল ও বুধবার লাফিয়ে বেড়েছিল শেয়ার সূচক। কিন্তু শুক্রবার ফের চুপসে যায় যখন বোঝা গেল সংঘর্ষ থামা নিয়ে আমেরিকার দাবির ভিত্তি নেই। এ দিকে এক মাস পেরিয়ে যুদ্ধ যত লম্বা হচ্ছে ততই ঘোরালো হচ্ছে ভারতের আর্থিক পরিস্থিতি। আমদানি-রফতানি ধাক্কা খাচ্ছে অথচ তার খরচ বাড়ছে। ডলার ৯৫ টাকা ছোঁয়ার অপেক্ষায়। ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলে ১১২.৫ ডলার। ফলে তেল, গ্যাস, সার-সহ বহু পণ্যের আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্য দিকে, ক্রমাগত ভারত ছাড়ছে বিদেশি লগ্নি। বাড়ছে মূল্যবৃদ্ধি আরও মাথা তোলার আশঙ্কা। যা ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ১০ মাসে সর্বোচ্চ। ফলে এপ্রিলের ঋণনীতিতে সুদ বৃদ্ধির জল্পনা শুরু হয়েছে।
সরকার তেলে শুল্ক কমালেও, এর সুরাহা ক্রেতারা পাচ্ছেন না। বরং এর মাধ্যমে তেল সংস্থাগুলির লোকসান পোষানো হচ্ছে। এর আগেও বহু দিন তেল যখন ৬০-৬৫ ডলার ছিল ও রাশিয়া থেকে আরও কম দামে আমদানি করা হচ্ছিল, তার সুবিধা মানুষ পাননি। বরং আশাতীত লাভ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র কেন বারবারই তাদের সুবিধা করে দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সব সংস্থার মুনাফা বাড়লে কেন্দ্রের ঘরে মোটা ডিভিডেন্ড ঢোকে।
যুদ্ধের যন্ত্রণা পৌঁছেছে ভারতের ঘরে ঘরে। আশঙ্কার বিষয় হল—
সব মিলিয়ে মার্চে চড়তে পারে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি। মাসখানেক আগেও সুদ কমা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এখন চর্চা শুরু হয়েছে তা বাড়ানো নিয়ে। সুদ বৃদ্ধি শিল্পের কাছে কাম্য নয়। এ দিকে, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ধাক্কা লাগবে রাজকোষ ঘাটতি ও জাতীয় উৎপাদনে। আশঙ্কা, তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বৃদ্ধির হার নামতে পারে ৪০-৫০ বেসিস পয়েন্ট। ফলে বাজারের বড় উত্থান আশা করা যায় না। যুদ্ধ থেমে হরমুজ় খুললে সূচক উঠবে। তবে উত্থান ধরে রাখা কঠিন। ছন্দে ফিরতে সময় নেবে শিল্প-বাণিজ্য।
স্থির আয় প্রকল্পে এখন সুদ কমার সম্ভাবনা নেই। বরং তা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড) পৌঁছেছে ৬.৯৩ শতাংশে। ভাল রেটিংয়ের বেসরকারি বন্ড কিনলে বেশি ইল্ড পাওয়া যেতে পারে। উল্লেখ্য, সুদ বাড়লে বন্ডের দাম কমে ও ইল্ড বাড়ে। সুদ কমলে হয় উল্টোটা।
(মতামত ব্যক্তিগত)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে