ডলারে টাকা ছুঁল ৬৮

ধস বাজারে, কংগ্রেসের তির মোদীর দিকে

এক দিকে বিশ্বের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের বিরূপ পূর্বাভাস, অন্য দিকে ইতিমধ্যেই ব্যারেলে ২৮ ডলারের নীচে থাকা তেলের দরে আরও পতন— এই দুইয়ের জেরে বুধবার ফের ধস নামল শেয়ার বাজারে। আর, তার প্রভাবে বিদেশি আর্থিক সংস্থার শেয়ার বিক্রির হিড়িকে টাকার দাম এক সময়ে তলিয়ে গেল ৬৮-র নীচে। ২৮ মাসে এত নীচে নামেনি টাকা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৬
Share:

এক দিকে বিশ্বের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের বিরূপ পূর্বাভাস, অন্য দিকে ইতিমধ্যেই ব্যারেলে ২৮ ডলারের নীচে থাকা তেলের দরে আরও পতন— এই দুইয়ের জেরে বুধবার ফের ধস নামল শেয়ার বাজারে। আর, তার প্রভাবে বিদেশি আর্থিক সংস্থার শেয়ার বিক্রির হিড়িকে টাকার দাম এক সময়ে তলিয়ে গেল ৬৮-র নীচে। ২৮ মাসে এত নীচে নামেনি টাকা।

Advertisement

বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স ৪১৭.৮০ পয়েন্ট নীচে থাকলেও এক সময়ে সূচক ৫৮০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে চলে যায় ২৩ হাজারের ঘরে। তবে পরে ভারতীয় আর্থিক সংস্থার শেয়ার কেনার হাত ধরে বাজার কিছুটা বাড়ায় ২৪ হাজারের ঘরেই থিতু হয় সেনসেক্স। লেনদেন শেষে সূচক ছিল ২৪,০৬২.০৪ অঙ্কে, গত ২০ মাসে যা সর্বনিম্ন। ডলারে টাকাও এ দিন বাজার বন্ধের সময়ে কিছুটা বেড়ে ২৩ পয়সা পড়েছে। ফলে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৭.৯৫ টাকা। এ দিন এশিয়া-ইউরোপ-আমেরিকা--বিশ্বের প্রায় সমস্ত বাজারেই সূচকের মুখ ছিল নীচের দিকে।

অর্থ মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রেরও দাবি, এই ধস মূলত বিশ্ব বাজার নিয়ে উৎকণ্ঠার জের। সেই দুশ্চিন্তা বাড়ে চিনের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের ফের সুদ বাড়ানোর আশঙ্কায়। শেয়ার সূচকের পতনের ফলেই টাকাও পড়েছে। অর্থ মন্ত্রকের আশা, পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই স্থিতিশীল হবে।

Advertisement

তবে অরুণ জেটলির মন্ত্রক এই যুক্তি দিলেও কংগ্রেস আজ অভিযোগ তুলেছে, মোদী জমানার ২০ মাসে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে যাওয়াতেই শেয়ার বাজারের এই টালমাটাল অবস্থা এবং টাকার পতন। কংগ্রেসের মুখপাত্র দীপেন্দ্র সিংহ হুডার প্রশ্ন, ‘‘যখন মোদী সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন ডলারের দাম ছিল ৫৮ টাকা। মোদী বলেছিলেন, ভারতীয় মুদ্রা ভেন্টিলেটরে চলে গিয়েছে। এখন তা হলে টাকা কোথায় পৌঁছেছে? চলতি মাসে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি শেয়ার বাজার থেকে ৭০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছে। লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার কী করছে? প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর করছেন, বিদেশি লগ্নি বিদায় নিচ্ছে।’’

লগ্নিকারীদের আশ্বস্ত করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর রঘুরাম রাজন বলেন, বিদেশি সংস্থাগুলি সর্বত্রই তড়িঘড়ি লগ্নি কাটছাঁট করছে, যার প্রভাব এড়াতে পারছে না ভারত। তবে মূল্যবৃদ্ধি, রাজকোষ ঘাটতিতে রাশ টেনে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে শীঘ্রই ফিরে আসবেন লগ্নিকারীরা।’’

Advertisement

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার জানিয়েছে, ২০১৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৩.৪%। আগের পূর্বাভাস ৩.৬%। সূচককে টেনে নামানোর এই অন্যতম কারণের পাশাপাশি ছিল তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের খারাপ আর্থিক ফলাফলের খবর, যার প্রভাবে বুধবার রিলায়্যান্সের শেয়ার দর ৪% পড়ে যায়।

এ দিন ভারতের বাজারে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির মোট শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৩২৪ কোটি টাকা। তবে ভারতীয় আর্থিক সংস্থাগুলির কেনার পরিমাণ ছিল ১৩৮৩ কোটি টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞ এবং স্টুয়ার্ট সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান কমল পারেখ বলেন, ‘‘বাজারে পতন আরও বড় মাপের হতে পারত। ভারতীয় সংস্থার শেয়ার কেনার বহর তা রুখে দিয়েছে।’’

রাজনের মতোই বিশেষজ্ঞদের আশা, আন্তর্জাতিক অবস্থার একটু উন্নতি হলেই ভারতের বাজার চাঙ্গা হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ মেম্বার্স অব ইন্ডিয়া-র ডিরেক্টর এস কে রাস্তোগি মনে করেন, ‘‘বর্তমান বাজার শেয়ার কেনার ভাল সুযোগ এনে দিয়েছে লগ্নিকারীদের সামনে। এখন দীর্ঘ মেয়াদে ভাল শেয়ার কিনতে পারলে ভবিষ্যতে ভাল মুনাফা করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement