বাজেট পেশ করছেন নির্মলা। ছবি: পিটিআই।
সামুদ্রিক পণ্যের দাম কমবে। চামড়া শিল্পকে ছাড় দেওয়া হবে। দাম কমবে পারমাণবিক বিদ্যুতেরও। জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা।
১ এপ্রিল থেকে চালু হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন। বাজেট পেশের সময় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নির্মলা জানালেন, নতুন আয়কর আইনে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। অডিট হয়নি এমন ব্যবসায়িক মামলা বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ। আরও সরলীকরণ করা হবে কর কাঠামো। ছোটমাপের আয়কর ফাঁকিতে শুধুই জরিমানা করা হবে। জেলে যাওয়া থেকে বাঁচতে দিতে হবে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা।
নির্মলা জানালেন, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশ হবে।
সারা দেশে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ তৈরি হবে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে থাকবে গবেষণাকেন্দ্রও। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে আগামী দশকে ক্রীড়া ক্ষেত্রের রূপান্তরের জন্য ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্প চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মহিলা উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার জন্যও প্রকল্প চালু করা হবে। ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচির সাফল্যের পর সরকার এ বার মহিলাদের ঋণ নির্ভর জীবিকা থেকে উদ্যোক্তা হিসাবে পরিচিতি দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানালেন নির্মলা।
বাংলার জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা। দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
১০ বছরে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বাজেট পেশের সময় জানালেন নির্মলা।
নির্মলা জানালেন, শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই কমিটি পরিষেবা ক্ষেত্রের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে সর্বোত্তম করার জন্য ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেবে এবং পরিষেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তির প্রভাব পর্যালোচনা করবে।
বাজেটে নারকেল চাষের উন্নতির জন্য বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানালেন, ভারতের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের পোর্টফোলিয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে ইকুইটিতে বিনিয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত সীমা ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে এই ধরনের সমস্ত বিনিয়োগকারীর জন্য সম্মিলিত সীমা ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৪% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তিগত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় সংস্থাগুলিতে আরও অর্থবহ অংশীদার হতে পারেন।
কর্পোরেট বাজারকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার একটি বাজার-নির্মাণ কাঠামো চালু করবে বলে ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চাকরির উপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তার মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। বাজেটে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
নির্মলা জানালেন, তিনটি এমস এবং তিনটি ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ’ তৈরি হবে দেশে। সারা দেশে ১৬ হাজার নতুন সেকেন্ডারি স্কুল তৈরি হবে। প্রতি জেলায় তৈরি হবে একটি করে মহিলাদের হস্টেল।
আগামী পাঁচ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করার পরিকল্পনা সরকারের। জলপথের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে। অভ্যন্তরীণ জলপথের জন্য জাহাজ মেরামতের বাস্তুতন্ত্র বারাণসী এবং পটনায় তৈরি হবে।
নির্মলা জানালেন, পরিষেবা ক্ষেত্রে বিশ্বের ১০ শতাংশ বাজার দখল করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এর জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি করা হবে।
২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের জন্য মূলধনি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি মূলধনি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে ১১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
২০২৬-’২৭ আর্থিক বছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ৪.৪ শতাংশ, লোকসভায় জানালেন নির্মলা সীতারমণ।
বাংলার জন্য বড় ঘোষণা। ডানকুনিতে তৈরি হবে পণ্য পরিবহণের বিশেষ করিডর। একই করিডর তৈরি হবে সুরতেও। সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে, যার মধ্যে একটি হবে শিলিগুড়িতে।
ভারতের ‘সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’ সেমিকন্ডাক্টরের জন্য শিল্প-নেতৃত্বাধীন গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে মনোনিবেশ করবে। জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর মিশনের গতিকে পুঁজি করে ব্যয় করা হবে ৪০,০০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
আমরা মনে করি খেলাধুলো সংক্রান্ত সরঞ্জাম তৈরিতে ভারত বিশ্বের সেরা হয়ে উঠতে পারে। বাজেট পেশের সময় মন্তব্য নির্মলার। ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলিতে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ‘আত্মনির্ভর ভারত’ তহবিলে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ‘বিকশিত ভারতের’ জন্য ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত উচ্চ-স্তরের কমিটি তৈরি করা হবে।
ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতে বিরল ধাতুর হাব তৈরি হবে। খনিতে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বস্ত্রশিল্পে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানালেন নির্মলা। খাদি বস্ত্রের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত। তৈরি হবে মেগা টেক্সটাইল হাব।